মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলজুড়ে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয় পক্ষকে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ করে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, চলমান সামরিক সংঘাত বন্ধ করে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে আসা জরুরি। তিনি দাবি করেন, পর্দার আড়ালে যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের সূত্রগুলো বলছে, সংঘাত শুরুর আগে ওয়াশিংটন থেকে ইসরায়েলকে সংযত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায় এবং দুই পক্ষই সামরিক অভিযান জোরদার করে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও ইসরায়েল উভয় দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার অভিযোগ তুলেছে। এর ফলে তেহরান, তেল আবিব এবং জেরুজালেমসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনভিত্তিক হুতি গোষ্ঠীও সংঘাতকে ঘিরে নতুন হুমকি দিয়েছে। তারা লোহিত সাগরে ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহনে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরিতা বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে যেকোনো ভুল সিদ্ধান্ত বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ফলে কূটনৈতিক উদ্যোগ সফল না হলে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতির দিকে নিবিড় নজর রাখছে। যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা সফল হবে কি না, তা নিয়েই এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে।