দেশের বিভিন্ন নদী এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হত্যার পর প্রমাণ গোপন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে অপরাধীরা নদীকে বেছে নিচ্ছে।
২৩ আগস্ট রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী ও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তে জানা যায়, তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় সদরঘাট নৌ থানায় হত্যা মামলা হলেও পাঁচ দিন পার হয়ে গেলেও পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশ ডিএনএ সংরক্ষণ করেছে এবং নিখোঁজ ডায়েরির সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখছে।
নৌ পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত অন্তত ৩০১ জন নারী, পুরুষ ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে ২০৯ জনের পরিচয় শনাক্ত হলেও ৯২ জন অজ্ঞাত থেকে গেছে। শুধু নারায়ণগঞ্জেই ৩৪টি এবং ঢাকায় ৩২টি মরদেহ পাওয়া গেছে। গত বছর উদ্ধার হয়েছিল ৪৪০টি মরদেহ, যাদের মধ্যে ১৪১ জনের পরিচয় অজানা রয়ে গেছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, পানিতে মরদেহ দীর্ঘসময় থাকলে পচে যায় এবং প্রমাণ নষ্ট হয়ে যায়। কখনো মাছের কামড় বা জাহাজের ধাক্কায় ক্ষত তৈরি হওয়ায় ফরেনসিক বিশ্লেষণেও জটিলতা দেখা দেয়। প্রাথমিকভাবে হত্যার প্রমাণ না পাওয়া গেলে পুলিশ সাধারণত অস্বাভাবিক মৃত্যু (ইউডি) মামলা করে, পরে তদন্তে হত্যার তথ্য মিললে সেটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে একটি মস্তকহীন মরদেহ উদ্ধারের পর আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণে পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত হাবিব (২৭) সোনারগাঁ উপজেলার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, মাথা লুকিয়ে রেখে হত্যাকারীরা শনাক্তকরণ কঠিন করতে চেয়েছিল।
অপরাধতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ওমর ফারুক মনে করেন, সংঘবদ্ধ অপরাধীরা হত্যার আগেই নদী বা রেলপথকে মরদেহ ফেলার স্থান হিসেবে নির্ধারণ করে রাখে। এতে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই তদন্ত অগ্রসর হয় না।
ঢাকা জেলা নৌ পুলিশের এসপি আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, মরদেহ শনাক্ত না হলে বা তদন্ত এগোয় না—তখন অন্য সংস্থার হাতে মামলা হস্তান্তর করা হয় বা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তবে সম্ভাব্য শনাক্তকরণের জন্য সব মরদেহের ডিএনএ সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
অতিরিক্ত আইজিপি ও নৌ পুলিশ প্রধান কুসুম দেওয়ান বলেন, “নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর পরিচয় শনাক্ত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে প্রতিটি ঘটনায় সত্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়।”