রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অনুষ্ঠিত ফার্স্ট ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোরাম (আইএসএফ ২০২৬) এবং ১৪তম আন্তর্জাতিক উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বৈঠক (14th HLOSM)-এ অংশ নিয়ে বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে মালয়েশিয়া।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (কেডিএন) প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন উপ-প্রধান সচিব (নিরাপত্তা) দাতো’ আবদুল হালিম বিন আবদুল রহমান। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব করে ২৬ থেকে ২৯ মে পর্যন্ত মস্কোর লাইভ এরেনায় অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশ নেন।
ফোরামে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, ক্রমবর্ধমান জটিল ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত ১৪তম আন্তর্জাতিক উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বৈঠকের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— “বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের আবির্ভাবের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ ও হুমকি”।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করেন দাতো’ আবদুল হালিম। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতায় রূপান্তর করতে মালয়েশিয়া দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ক্ষেত্রে দেশটি সক্রিয়, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অভিযোজনক্ষম নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যা আসিয়ান কেন্দ্রিকতার (ASEAN Centrality) নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
ফোরামের অংশ হিসেবে তিনি আসিয়ান-রাশিয়া পরামর্শ সভাতেও অংশ নেন। সেখানে সীমান্ত-পার অপরাধ মোকাবিলায় বাস্তবধর্মী সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আলোচনায় অনলাইন প্রতারণা (স্ক্যাম), সাইবার নিরাপত্তা হুমকি, অবৈধ মাদক পাচার দমন, জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক জলসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
ফোরামের ফাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মহাপরিচালক রাজা দাতো’ নুশিরওয়ান জয়নাল আবিদীনের সঙ্গে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগু এবং রুশ প্রেসিডেন্টের সহকারী নিকোলাই পাত্রুশেভের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে অংশ নেয়। বৈঠকগুলোতে মালয়েশিয়া ও রাশিয়ার মধ্যকার নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
ফোরামের শেষ দিনে প্রতিনিধি দল রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগুর আয়োজিত গালা ডিনারেও অংশগ্রহণ করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আইএসএফ ২০২৬-এ মালয়েশিয়ার অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি ন্যায়বিচারভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে এটি ‘মালয়েশিয়া মাদানি’ দর্শনের আলোকে দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় করার প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।