প্রবাস জীবনের ব্যস্ততা, পরিবার-পরিজন থেকে হাজার মাইল দূরে থাকার বেদনা আর ঈদের দিনে আপনজনদের শূন্যতা—সবকিছুকে এক অনন্য ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে রাঙিয়ে তুললো মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। আনন্দ, আবেগ আর ভালোবাসার এক অভূতপূর্ব মিলনমেলায় মুখরিত হয়ে উঠেছিল মিশরের রাজধানী কায়রো।
বৃহস্পতিবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় কায়রোর সাক্কারা কুরাইশ এলাকার আত-তাইসির হলে অনুষ্ঠিত হয় ‘আযহার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশ’ মিশর শাখার উদ্যোগে ঈদুল আজহা পুনর্মিলনী। এতে অংশ নেন দেশটিতে অধ্যয়নরত আট শতাধিক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। আয়োজকদের দাবি, এটিই ছিল এ যাবতকালের মধ্যে মিশরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।
পবিত্র আল-কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি আবদুর রহমান মুহাম্মাদ নওয়াব। তিনি বলেন, “প্রবাসে থেকেও শিক্ষার্থীরা যেন পরিবার ও দেশের উষ্ণতা অনুভব করতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের এই আয়োজন।
এরপর মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। শিল্পীদের সুললিত কণ্ঠে ইসলামী সংগীত ও অন্যান্য পরিবেশনা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদের আনন্দকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ উপহার প্রদানের মাধ্যমে প্রায় ১৫০ জন নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করে নেওয়া হয়। একইসঙ্গে উপস্থিত প্রায় ৪০ জন শিশু-কিশোরের হাতে তুলে দেওয়া হয় খেলনা ও ঈদ সালামি। ছোট্ট শিশুদের হাসিমাখা মুখ আর উচ্ছ্বাসে মুহূর্তেই উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন।
পরবর্তী পর্বে সংগঠনের বর্তমান কার্যকরী পরিষদের পক্ষ থেকে সাবেক সভাপতিদের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ প্রবাস জীবনে পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিসবাহুল হক মিরাজী, সহ-সভাপতি যায়েদ আহমাদ, সাবেক সভাপতি শিহাব উদ্দিন, সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ তরফদার, সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা জামাল, বর্তমান সিনিয়র উপদেষ্টা মোশাররফ হোসেন, সাবেক সদস্য প্রতিনিধি আখতারুজ্জামান এবং বর্তমান সদস্য প্রতিনিধি আবু আদনান মহিবুর রহমান।
সভাপতি আবদুর রহমান মুহাম্মাদ নওয়াবের সমাপনী বক্তব্য এবং প্রবীণ শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমানের দোয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। এরপর উপস্থিত সবার জন্য পরিবেশন করা হয় কোরবানির উট ও গরুর মাংসের বিশেষ আপ্যায়ন। বিশেষ করে সংগঠনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোরবানির উটের সুস্বাদু মাংস পরিবেশন শিক্ষার্থীদের কাছে এবারের ঈদ আয়োজনকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ছাড়াও অংশ নেন তাদের পরিবারবর্গ এবং মিশরে বসবাসরত প্রবাসী ও পেশাজীবীরা। প্রবাসের মাটিতে এমন হৃদয়ছোঁয়া আয়োজন মুহূর্তের জন্য ভুলিয়ে দিয়েছিল দেশ থেকে দূরে থাকার কষ্ট; ক্ষণিকের জন্য হলেও এক ছাদের নিচে যেন গড়ে উঠেছিল এক টুকরো বাংলাদেশ।