পর্তুগালে প্রায় চার হাজার অভিবাসীর বসবাস বৈধ করার নামে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির বিচারিক পুলিশ। অভিযানে একজন ব্যবসায়ী ও একজন আইনজীবীসহ দুই সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) পর্তুগিজ কর্তৃপক্ষ জানায়, “তের্রা মিলাগ্রোসা” (অর্থাৎ ‘মিরাকল ল্যান্ড’) নামে পরিচালিত এ অভিযানে অবৈধ অভিবাসন সহায়তা, নথি জালিয়াতি, কম্পিউটার প্রতারণা ও অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ককে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। অভিযানটি সোমবার লিসবনের উপকণ্ঠের ওইরাস ও ওদিভেলাস এলাকায় পরিচালিত হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেউলিয়া কিংবা অকার্যকর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অনলাইন প্রবেশাধিকার চুরি করে ব্যবহার করত। সেই তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া চাকরির চুক্তিপত্র, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করা হতো, যা পরে অভিবাসীদের বৈধতার আবেদনে ব্যবহার করা হয়।
পর্তুগালের বিচারিক পুলিশ জানিয়েছে, এ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় চার হাজার বিদেশি নাগরিকের নামে কৃত্রিম অবদান (contribution history) তৈরি করা হয়েছিল। এর ফলে দেশটির সামাজিক নিরাপত্তা খাতে প্রায় এক কোটি ইউরোর আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, যাদের অনেককে বৈধ দেখানো হয়েছে তারা বাস্তবে পর্তুগালে বসবাসও করতেন না; বরং ইউরোপের অন্য দেশে অবস্থান করছিলেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ তদন্ত শুরু হয়। তদন্তের প্রধান সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তি হলেন ৫৩ বছর বয়সী এক বিদেশি ব্যবসায়ী এবং ৫৬ বছর বয়সী এক পর্তুগিজ আইনজীবী। তাদের বিরুদ্ধে পূর্বেও একই ধরনের অপরাধের অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে। অভিযানের সময় বিভিন্ন নথি, কম্পিউটার সরঞ্জাম এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে, অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার অংশ হিসেবে পর্তুগালের মধ্য-ডানপন্থী সরকার সম্প্রতি বিভিন্ন নিয়ম আরও কঠিন করেছে। সরকারের দাবি, আগের প্রশাসনের সময় চালু হওয়া কিছু শিথিল ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে নানা ধরনের অপব্যবহার ও জালিয়াতি বেড়ে যায়। বিশেষ করে শ্রমবাজারে বিদেশিদের প্রবেশ সহজ হওয়ার কারণে ভুয়া চাকরির নথির মাধ্যমে বৈধতা পাওয়ার ঘটনা বাড়তে থাকে।
পর্তুগালের অভিবাসন ও আশ্রয় সংস্থা “আইমা”র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে বৈধভাবে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে, যা তিন বছর আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ জনসংখ্যার দেশ পর্তুগালে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।