পর্তুগালে নাগরিকত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন জাতীয়তা আইন আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। সোমবার দেশটির সরকারি গেজেট ডিয়ারিও দা রিপাবলিকা-তে আইনটি প্রকাশিত হওয়ার পর মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে তা কার্যকর হয়। নতুন এই আইনের ফলে নাগরিকত্ব আবেদনের জন্য বৈধ বসবাসের সময়সীমা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পর্তুগালে জন্ম নেওয়া অভিবাসী সন্তানদের নাগরিকত্ব পাওয়ার নিয়মেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, পর্তুগিজ ভাষাভাষী দেশগুলোর জোট সিপিএলপিভুক্ত দেশের নাগরিকদের এখন পর্তুগিজ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে কমপক্ষে সাত বছর বৈধভাবে বসবাস করতে হবে। এর বাইরে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এ সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে অধিকাংশ আবেদনকারীর জন্য পাঁচ বছর বৈধ বসবাসের নিয়ম কার্যকর ছিল।
আইনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এখন থেকে নাগরিকত্বের সময় গণনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বৈধ রেসিডেন্স পারমিট ইস্যুর তারিখ বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ, রেসিডেন্স অনুমোদনের অপেক্ষার সময় আর নাগরিকত্বের যোগ্যতার সময়সীমার মধ্যে গণনা করা হবে না। ফলে অনেক অভিবাসীর নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পর্তুগালে জন্মগ্রহণকারী বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদের ক্ষেত্রেও নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সহজে পাওয়া গেলেও এখন সন্তানের জন্মের সময় বাবা বা মায়ের অন্তত একজনকে টানা পাঁচ বছর বৈধভাবে পর্তুগালে বসবাস করতে হবে। অন্যথায় সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে পর্তুগিজ নাগরিকত্ব পাবে না।
এছাড়া, পর্তুগালে জন্ম নেওয়া নাবালকদের নাগরিকত্বের জন্য স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার আওতায় যেতে হবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক স্কুল শিক্ষায় অংশগ্রহণের শর্তও যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন আইনে নিরাপত্তা ও অপরাধ সংক্রান্ত যাচাই আরও কঠোর করা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা গুরুতর অপরাধে তিন বছরের বেশি কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব আবেদন বাতিল করা হতে পারে। একই সঙ্গে জাতীয়তা প্রক্রিয়ায় বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত সেফার্ডিক ইহুদিদের বংশধরদের জন্য বিশেষ নাগরিকত্ব সুবিধাও এই আইনের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে।
তবে ইতোমধ্যে চলমান আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে আগের নিয়ম কার্যকর থাকবে বলে আইনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, যেসব আবেদন ইতোমধ্যে প্রশাসনিকভাবে জমা হয়েছে, সেগুলো পূর্ববর্তী আইন অনুযায়ী নিষ্পত্তি হবে এবং নতুন নিয়ম পূর্বের তারিখ থেকে কার্যকর হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই আইন পর্তুগালের অভিবাসন ও নাগরিকত্ব নীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকার বলছে, জাতীয়তা প্রদানের ক্ষেত্রে “বাস্তব সংযুক্তি” ও “দীর্ঘমেয়াদি একীভূতকরণ” নিশ্চিত করতেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে