আর্জেন্টিনায় হান্টাভাইরাস সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ১০১টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং মারা গেছেন ৩২ জন।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের একই সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৭। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সংক্রমণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একইসঙ্গে মৃত্যুহারও সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড় এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে ভাইরাস বহনকারী ইঁদুর নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ায়। যদিও বিরল ক্ষেত্রে মানুষ থেকেও মানুষে সংক্রমণ ঘটতে পারে।
সাধারণত ইঁদুরের প্রস্রাব, বিষ্ঠা ও লালার মাধ্যমে ভাইরাস পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ইঁদুরের উপস্থিতি থাকা স্থান পরিষ্কার করার সময় ভাইরাস বাতাসে মিশে নিশ্বাসের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
আর্জেন্টিনার বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হলেও সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত পাওয়া গেছে রাজধানী বুয়েনোস আইরেসে। সেখানে এখন পর্যন্ত ৪২টি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রমোদতরিতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন অসুস্থ হয়েছেন।
অন্যদিকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের টেনেরিফ উপকূলে নোঙর করা হান্টাভাইরাস আক্রান্ত ক্রুজ জাহাজ এমএস হন্ডিয়াস থেকে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে স্পেন সরকার।
স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাত্রীদের জাতীয়তা অনুযায়ী ধাপে ধাপে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১৪ জন স্প্যানিশ নাগরিককে সরানো হবে। এরপর নেদারল্যান্ডস, গ্রিস ও জার্মানির যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হবে। পরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের যাত্রীদের জন্য ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে এবং সর্বশেষ ধাপে আগামী সোমবার অস্ট্রেলিয়াগামী ফ্লাইট ছাড়বে।