ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নিসে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নির্ধারিত সরকারি ভাতা আত্মসাতের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। দেশটির প্রসিকিউটর দপ্তর জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে এই জালিয়াতি চালানো হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২২ সালের শুরু থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আশ্রয়প্রার্থীদের ভাতা কার্ড ব্যবহার করে প্রায় ৫০ লাখ ইউরোর অনিয়ম করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তার দোকানগুলোতে ভুয়া কেনাকাটার মাধ্যমে কার্ডের অর্থ নগদে রূপান্তর করা হতো।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, আশ্রয়প্রার্থীরা দোকানে গিয়ে কার্ড ব্যবহার করতেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কোনো পণ্য কেনা হতো না। ব্যবসায়ী কার্ড থেকে অর্থ তুলে তার একটি অংশ কমিশন হিসেবে রেখে বাকি টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেরত দিতেন।
ফ্রান্সে আশ্রয়প্রার্থীদের দেওয়া বিশেষ কার্ড দিয়ে সাধারণত কেনাকাটা করা গেলেও নগদ অর্থ তোলার সুযোগ নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তি সেই সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়েই এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুলিশের এক অভিযানের সময় কয়েকটি ভাতা কার্ড উদ্ধার হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়। পরে একই মালিকানাধীন তিনটি দোকানের মাধ্যমে নিয়মিত এ ধরনের লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এসব অর্থের একটি অংশ পরে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হতো। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর তিনি অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আদালত তাকে সংঘবদ্ধ জালিয়াতি ও অর্থপাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে এবং তার সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায়ও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।