লন্ডনের পূর্বাঞ্চলীয় বাংলাদেশি অধ্যুষিত বরো টাওয়ার হ্যামলেটসে (Tower Hamlets) স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বইছে ভোটের হাওয়া। আগামী ৭ মে (২০২৬) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে মেয়র পদে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর অংশগ্রহণ লড়াইকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। বিশেষ করে চারজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি করেছে।
মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যারা রয়েছেন
বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমান আবারও তাঁর দল ‘অ্যাসপায়ার পার্টি’ (Aspire Party) থেকে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে লেবার পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলামকে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন জামি আলী এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটস থেকে লড়ছেন মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান।
অন্যদিকে কনজারভেটিভ, গ্রিন পার্টি, রিফর্ম ইউকে এবং অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও সক্রিয় রয়েছেন, যা নির্বাচনের লড়াইকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে।
কেন এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ?
টাওয়ার হ্যামলেটস দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি রাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত। এই বরোর দুটি সংসদীয় আসনে বর্তমানে প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই এমপি—রুশনারা আলী ও আপসানা বেগম। ফলে স্থানীয় কাউন্সিল ও মেয়র পদেও বাংলাদেশি নেতৃত্ব বজায় রাখার লড়াইটি এবার অত্যন্ত মর্যাদার।
প্রার্থীদের প্রধান অঙ্গীকার
লুৎফুর রহমান (অ্যাসপায়ার): তাঁর মেয়াদে হওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সিরাজুল ইসলাম (লেবার): আবাসন সংকটের সমাধানে ৫ হাজার নতুন ঘর নির্মাণের বড় পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন।
জামি আলী (স্বতন্ত্র): প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচিত হওয়ার ১০০ দিনের মধ্যে কাউন্সিল ব্যয়ের ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট অডিট’ করার অঙ্গীকার করেছেন।
মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান (লিবারেল ডেমোক্র্যাটস): পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সেবা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।
ভোটারদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা
যুক্তরাজ্যের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রে অবশ্যই বৈধ ফটো আইডি (যেমন: পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স) সঙ্গে আনতে হবে। পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো ভোটার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন না।
লন্ডনের ব্যস্ত নগরজীবনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে টাওয়ার হ্যামলেটস। বাংলাদেশি কমিউনিটির জোরালো প্রভাব আর একাধিক যোগ্য প্রার্থীর উপস্থিতি নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে। এখন শুধু দেখার অপেক্ষা, ভোটাররা আগামী কয়েক বছরের জন্য কার হাতে বরোর দায়িত্ব তুলে দেন।