স্পেনের বার্সেলোনা শহরে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে বর্তমানে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষ স্থায়ী বাসস্থান ছাড়াই জীবনযাপন করছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২ হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রোন্ডা লিটোরাল-এর পাশে প্রায় ১৫০ জন মানুষ তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন। এদের মধ্যে অনেকে কাজ হারানো, পারিবারিক ভাঙন কিংবা আর্থিক সংকটের কারণে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন।
গৃহহীনদের মধ্যে বৈচিত্র্যও রয়েছে। কেউ বিদেশি তরুণ, যারা নতুন করে কাজ ও বৈধ কাগজপত্রের আশায় এসেছে; আবার কেউ স্থানীয় বাসিন্দা, যারা চাকরি হারিয়ে বা আয় কমে যাওয়ায় বাসা ভাড়া দিতে পারছেন না। অনেকেই অস্থায়ী কাজ করে অল্প আয়ে দিন কাটাচ্ছেন, কিন্তু তা দিয়ে বাসাভাড়া বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
একজন মধ্যবয়সী ব্যক্তি জানান, তিনি নিয়মিত কাজ করলেও আয়ের তুলনায় ভাড়া এত বেশি যে একটি কক্ষ ভাড়া নেওয়াও সম্ভব হচ্ছে না। আরেকজন বলেন, আগে তিনি রেস্তোরাঁ ব্যবসা করতেন, কিন্তু তা বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর আর স্থায়ী থাকার জায়গা জোটেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গৃহহীন মানুষের প্রচলিত ধারণা এখন বদলে গেছে। এখন অনেক কর্মজীবী মানুষও এই সংকটে পড়ছেন। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা গৃহহীনদের প্রায় ১৩ শতাংশের নিয়মিত আয় রয়েছে।
সামাজিক সংস্থাগুলোর মতে, গৃহহীনদের সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই এবং বিদ্যমান সেবাগুলো অনেক ক্ষেত্রে মানুষের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনেককে প্রাথমিক সহায়তা পেতেও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হয়, আর আশ্রয়কেন্দ্রে জায়গা পেতে প্রায় এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, শহরে বাড়িভাড়ার লাগামহীন বৃদ্ধি এবং জেন্ট্রিফিকেশন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আগে যারা স্বল্প খরচে বাসা বা কক্ষ ভাড়া নিতে পারতেন, এখন তারা তা আর পারছেন না।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষের সংখ্যা গত দুই বছরে প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া কয়েকশ মানুষ বস্তি বা দখলকৃত স্থানে, প্রায় তিন হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে এবং সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষ অস্থায়ী জরুরি আবাসনে থাকছেন।
গৃহহীনতা মোকাবিলায় একটি আইন এখনো প্রক্রিয়াধীন থাকলেও তা বাস্তবায়নে ধীরগতি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এই বিলম্বের অন্যতম কারণ।