চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় প্রায় সাত বছর আগে নিখোঁজ হয়ে ‘অপহরণের পর হত্যা’ হয়েছে বলে দাবি করা আয়েশা খাতুন (২৪) নামের এক তরুণীকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৩ মে) রাতে উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া আয়েশা ভোলাহাট উপজেলার খালে আলমপুর গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বারিক।
পুলিশ জানায়, ২০১৯ সালের ৩১ মে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন আয়েশা। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে তার মা আদুরী বেগম আদালতে অপহরণের পর হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে তদন্ত শেষে পুলিশ ও সিআইডি অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে একই ঘটনায় চারজনকে আসামি করে নতুন করে মামলা দায়ের করেন আয়েশার মা, যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি আয়েশা জীবিত থাকার তথ্য পায় তারা। বিভিন্ন সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, তিনি রাজশাহী থেকে ভোলাহাটের উদ্দেশ্যে একটি বিআরটিসি বাসে রওনা হয়েছেন। পরে বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান নিয়ে বাসটি পৌঁছালে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওসি। তিনি কখনো কুষ্টিয়ায়, আবার কখনো ঢাকার মিরপুরে থাকার কথা বলেছেন।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে ম্যাজিস্ট্রেট তার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে তাকে তার মা-বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আয়েশার নিখোঁজ থাকার প্রকৃত কারণ এবং এতদিন কোথায় ছিলেন—তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।