ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে ফসলহানির শোকে আহাদ মিয়া (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে নিজের ছয় বিঘা জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে যেতে দেখে তিনি জমির আইলে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত আহাদ মিয়া স্থানীয় হরমুজ আলীর ছেলে। তিন সন্তানের জনক এই কৃষক ধারদেনা করে জমিতে আবাদ করেছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আহামেদ আলী বলেন, চোখের সামনে সব ফসল নষ্ট হতে দেখে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এমন দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত মারা যান।
এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে গোয়ালনগর ইউনিয়নের সোনাতলা, ঝামারবালি ও কদমতলি—এই তিন গ্রামে অন্তত তিন হাজার বিঘা জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুধু সোনাতলা গ্রামেই প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার বিঘা জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফসলহানিতে কৃষকদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। অনেকেই ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। এখন সেই ধান চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। ইতোমধ্যে আরও কয়েকজন কৃষক শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান সাকিল জানান, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে নতুন করে আরও কয়েক হাজার বিঘা জমি তলিয়ে গেছে বলে কৃষকেরা জানিয়েছেন। ঘটনাটি জানার পর কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন বলেন, কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রকৃত কৃষকদের প্রণোদনার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা না পেলে তারা আরও বড় সংকটে পড়বেন।