লিসবনে গণপরিবহনে এক মুসলিম নারীকে হিজাব ও মাস্ক পরার কারণে বাসে উঠতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ২৬ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারী মিম আক্তার পরিবহন সংস্থা ক্যারিশ এবং পিএসপি-এর কাছে বৈষম্যের অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে সকালে নিজের দুই সন্তানকে স্কুলে নামিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মিম আক্তার ক্যারিশ-এর ৭৩৭ নম্বর রুটের একটি বাসে উঠতে গেলে চালক তাকে থামিয়ে দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চালক তাকে বলেন যে মাস্ক পরে তিনি বাসে উঠতে পারবেন না।
মিম আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি তখনই সার্জিক্যাল মাস্ক নামিয়ে মুখ দেখান। কিন্তু এরপরও চালক নাকি মাস্ক পুরোপুরি খুলে ফেলতে বলেন এবং সতর্ক করেন, তা না হলে বাস ছাড়বেন না।
পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর হয়ে উঠলে ওই নারী শেষ পর্যন্ত বাস থেকে নেমে যেতে বাধ্য হন। এক যাত্রীর পক্ষ থেকেও তাকে ‘ঝামেলা না করতে’ পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিম আক্তার একজন মুসলিম নারী এবং তিনি হিজাব ব্যবহার করেন, যা মাথা ঢাকে কিন্তু মুখমণ্ডল ঢাকে না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তিনি কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে গণপরিবহনে সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করে আসছেন।
ঘটনার পর তিনি স্থানীয় সহায়তা নেটওয়ার্কের সহযোগিতা নিয়ে ক্যারিশ-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। কোম্পানিটি জানিয়েছে, অভিযোগটি “অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায়” আছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, প্রতিষ্ঠানটি অন্তর্ভুক্তি, বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান এবং আইনগত ও নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হয়।
এ ঘটনার জেরে লেফট ব্লক লিসবন সিটি হলের মেয়রের কাছেও ব্যাখ্যা চেয়েছে। দলটি জানতে চেয়েছে, ক্যারিশ কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে, তদন্তের বর্তমান অবস্থা কী এবং তা শেষ হতে কত সময় লাগতে পারে।
অন্যদিকে, পিএসপি-তে অভিযোগ জানাতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার আচরণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযোগ গ্রহণের সময় তিনি বৈষম্যের অভিযোগের কারণ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন এবং নারীর পোশাককে ভুলভাবে ‘বোরকা’ বলে উল্লেখ করেন; পরে বিষয়টি সংশোধন করা হয়।
মিম আক্তার প্রায় ছয় বছর ধরে পর্তুগালে বসবাস করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। তার অভিযোগ, ঘটনাটি তাকে অপমানিত ও মানসিকভাবে আঘাত করেছে।
প্রসঙ্গত, পর্তুগালের পার্লামেন্টে মুখ আড়ালকারী পোশাক নিয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদনের প্রক্রিয়া এগোলেও সেটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর আইন হিসেবে বলবৎ হয়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। ফলে জনপরিসরে হিজাব পরা নিষিদ্ধ—এমন দাবি এই ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।