যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে নতুন কঠোরতা এনেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সম্ভাব্য রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশ আরও সীমিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যা বিশেষ করে ‘নন-ইমিগ্র্যান্ট’ ভিসা আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেউ যদি ভিসা আবেদন করার সময় নিজ দেশে নির্যাতন বা নিপীড়নের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেন, তাহলে তাকে ভিসা দেওয়া হবে না।
এই নীতি পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং অস্থায়ী কর্মী ভিসা আবেদনকারীদের ওপর প্রযোজ্য হবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কনস্যুলার কর্মকর্তাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করতে বলেছে:
- আপনি কি নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন?
- দেশে ফিরলে কি নির্যাতনের আশঙ্কা আছে?
ভিসা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে এই দুই প্রশ্নের উত্তরে ‘না’ বলতে হবে—এমন নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো, কেউ যেন ‘নন-ইমিগ্র্যান্ট’ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে পরে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন না করতে পারে। অর্থাৎ ভ্রমণের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিশ্চিত করতে চায় প্রশাসন।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়ম আবেদনকারীদের কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। অনেকেই হয়তো নিজের নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও তা অস্বীকার করতে বাধ্য হবেন, যা মানবিক দিক থেকে উদ্বেগজনক।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ৭৫টি দেশের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করেছিল এবং শিক্ষার্থী ভিসা যাচাইও কঠোর করেছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দেশটিতে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হয়।
সব মিলিয়ে, নতুন এই নীতিকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায়ও প্রভাব ফেলতে পারে।