গাজা উপত্যকামুখী নৌবহরকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি নৌবাহিনী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা-র জাহাজগুলো আটকাতে অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫৮টি জাহাজ নিয়ে গঠিত এই বহরটি ক্রিট দ্বীপ-এর কাছাকাছি অবস্থানে ছিল, যখন ইসরায়েলি বাহিনী তাদের বাধা দেয়। বহরটির লক্ষ্য ছিল গাজা উপত্যকা-য় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের নৌ অবরোধ ভাঙা।
ইসরায়েলি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বহরটির কর্মীদের গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। তাদের বলা হয়, মানবিক সহায়তা পাঠাতে চাইলে স্বীকৃত চ্যানেল ব্যবহার করতে হবে এবং প্রয়োজনে আশদোদ বন্দর-এ যেতে পারে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে—আটক করা একটি জাহাজে ‘অপ্রাসঙ্গিক সামগ্রী’ পাওয়া গেছে, যদিও এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই ধরনের ফ্লোটিলা আগে একাধিকবার গাজার অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, জলবায়ু আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ-সহ আন্তর্জাতিক কর্মীরাও পূর্বে এমন উদ্যোগে অংশ নিয়েছিলেন।
পটভূমিতে রয়েছে দীর্ঘদিনের অবরোধ। ২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ও মিশর বিভিন্নভাবে এই অঞ্চল অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ইসরায়েলের দাবি, এটি অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে প্রয়োজনীয়—বিশেষ করে ৭ অক্টোবর হামলা-এর পর তাদের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে।
তবে সমালোচকদের মতে, এই অবরোধে গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষের ওপর গুরুতর মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই নৌবহরকে ঘিরে নতুন এই ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলছে।