যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল লেবাননে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত কয়েক ডজন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
লেবানন সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে একটি ‘ডাবল ট্যাপ’ হামলায় পাঁচজন নিহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন ছিলেন সিভিল ডিফেন্স কর্মী—তারা আগের হামলার পর উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া লেবাননের সেনাবাহিনীর দুই সদস্য আহত হয়েছেন।
‘ডাবল ট্যাপ’ হামলা এমন এক কৌশল, যেখানে প্রথম হামলার পরপরই একই স্থানে আবার আঘাত হানা হয়, যাতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ে।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এবং প্রেসিডেন্ট যোসেফ আউন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেছেন, যুদ্ধবিরতি মানতে ইসরায়েলকে বাধ্য করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে অভিযান চালিয়ে তিনজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাকে হত্যা করেছে এবং সংগঠনটির অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ইয়েলো লাইন’-এর উত্তরের এলাকাসহ একাধিক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এছাড়া ইসরায়েল জানিয়েছে, আল-কানতারা এলাকায় হিজবুল্লাহর একটি বড় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এই টানেলে আবাসন, রান্নাঘর ও অপারেশন কক্ষ ছিল, যা ইরানের সহায়তায় তৈরি একটি বড় সামরিক স্থাপনা।
বিমান হামলার পাশাপাশি আর্টিলারি হামলাও চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল, যা পুরো অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।