ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে পূর্ণ সমর্থন না দেওয়ায় ন্যাটোর সদস্য দেশ স্পেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন তথ্য সামনে আসায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ বার্তায় “সহযোগিতায় অনাগ্রহী” মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ বিবেচনার কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে স্পেনকে ন্যাটো থেকে সাময়িকভাবে স্থগিত করার সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
এ বিষয়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, তার দেশ ন্যাটোর প্রতি সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যেই সব সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার কোনো অনানুষ্ঠানিক বার্তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয় না, বরং সরকারি নথি ও অবস্থান অনুসরণ করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে মিত্রদের কাছ থেকে ঘাঁটি ব্যবহার ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু স্পেনসহ কিছু ইউরোপীয় দেশ এতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে, যা ওয়াশিংটনের অসন্তোষের কারণ হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে ন্যাটো সদস্যদের সমালোচনা করে বলেছেন, জোটের সদস্যরা সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করতে পারে না, বরং সংকটের সময় তাদেরও পাশে দাঁড়াতে হবে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ন্যাটোর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো সদস্য দেশকে সরাসরি বহিষ্কারের বিধান নেই। ফলে স্পেনকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়ন করা কঠিন।
এই পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা।