মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের নীতিতে আংশিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশের জন্য এই টোল থেকে ছাড় দেওয়া হতে পারে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মস্কোয় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি জানান, কিছু দেশের জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ব্যতিক্রমী সুবিধা কার্যকর করার চেষ্টা করছে এবং রাশিয়া এর একটি উদাহরণ হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে এই নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
এর আগে ইরান ঘোষণা দিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজের ওপর টোল আরোপ করা হবে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজ থেকে টোল আদায় করে তা ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছে। জাহাজ জব্দ ও পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান জানিয়েছে, চলমান অবরোধ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তারা আলোচনা বা প্রণালি উন্মুক্ত করার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সমুদ্রে মাইন পেতে রাখার চেষ্টা দেখা গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উভয় পক্ষের মধ্যে জাহাজ জব্দের ঘটনা ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত না হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।