সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এবার ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সাড়ে ১৮ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রবেশের সময় অধিকাংশ কেন্দ্রে প্রবেশপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি অতিরিক্ত কাগজপত্র আছে কি না তা কঠোরভাবে তল্লাশি করা হয়।
দেশজুড়ে মোট ৩০ হাজার ৬৬৬টি স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র—অনেক শিক্ষার্থীকে বেশ উদ্বিগ্ন মনে হলেও তাদের চেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় ছিলেন অভিভাবকরা।
রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে যানজটের ভোগান্তি পেরিয়ে কেন্দ্রে পৌঁছান। তবে আবহাওয়া কিছুটা সহনীয় থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেন অনেকেই।
নিরাপত্তা জোরদারে এবার বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নকল, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগেই কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে।
সূচি অনুযায়ী, সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে প্রথম দিনে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাদরাসা বোর্ডে দাখিল পরীক্ষার্থীদের কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি বোর্ডে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। এর মধ্যে সাধারণ বোর্ডে ১৪ লাখের বেশি, মাদরাসা বোর্ডে ৩ লাখের বেশি এবং কারিগরি বোর্ডে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার পরীক্ষার্থী রয়েছে।
এর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী প্রায় ১৪ লাখ ৪৮ হাজার এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থী চার লাখের বেশি। অনিয়মিতদের মধ্যে অনেকে একটি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে আবার কেউ একাধিক বিষয়ে অংশ নিচ্ছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারিতে রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নীতিমালা ভঙ্গ করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে।