আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ‘মডারেট’ বা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে রুমিন ফারহানা-র সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মূল্যস্ফীতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম যেভাবে বেড়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে দাম বৃদ্ধি অনেক কম। “আমরা জ্বালানির দাম খুবই মডারেট হারে বাড়িয়েছি,”—বলেন তিনি।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, একটি শিল্প-কারখানার মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭-৮ শতাংশ জ্বালানির পেছনে ব্যয় হয়। সেখানে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়লেও সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম।
পরিবহন খাতের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি বাস ২০০ কিলোমিটার চলতে প্রায় ২৫-৩০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করে, এতে অতিরিক্ত খরচ হয় প্রায় ৪৫০ টাকা। একই পরিমাণ জ্বালানিতে একটি ট্রাক প্রায় ১০ হাজার কেজি পণ্য পরিবহন করতে পারে। ফলে ইউনিটপ্রতি পণ্যের ওপর এর প্রভাব খুব বেশি নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে জ্বালানি তেলের দাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হয়। উদাহরণ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কথা উল্লেখ করে জানান, যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম ছিল ২.৭০–২.৮০ ডলার, তা পরে ৫ ডলার ছাড়িয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করতে হলে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য সমন্বয় করতে হয়। “বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমরাও সেই নীতি অনুসরণ করে জ্বালানির দাম সমন্বয় করেছি,”—যোগ করেন তিনি।