বাংলাদেশের ২০২৬ সালের হজ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। শনিবার ভোরে সৌদি আরবের জেদ্দা শহরের কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ অবতরণ করেছে প্রথম হজ ফ্লাইট।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালিত বিশেষ ফ্লাইট বিজি-৩০০১ স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২০ মিনিটে অবতরণ করে। এর মাধ্যমে এ বছরের হজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
বিমানবন্দরে হজযাত্রীদের জন্য ছিল বিশেষ অভ্যর্থনার আয়োজন। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেলওয়ার হোসেন এবং জেদ্দাস্থ কাউন্সিলর (হজ) কামরুল ইসলাম উপস্থিত থেকে হাজিদের স্বাগত জানান। এছাড়া জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
হজযাত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় রিফ্রেশমেন্ট কিট। দীর্ঘ যাত্রার পর সৌদি আরবের উষ্ণ আতিথেয়তায় অনেক হাজিকে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।
সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও ছিল সার্বিক সহযোগিতা। জেদ্দা হজ টার্মিনালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং ‘নুসুক মারহাবা’ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা হাজিদের দ্রুত ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্নে সহায়তা করেন।
হজযাত্রীরা জানান, যাত্রাপথে সেবার মান এবং সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর ব্যবস্থাপনা ছিল সন্তোষজনক। বিশেষ করে ‘রুট টু মক্কা’ উদ্যোগের কারণে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বছর বাংলাদেশ থেকে বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালনে অংশ নিচ্ছেন। যাত্রী পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি সাউদিয়া এবং ফ্লাইনাস অংশ নিচ্ছে।
হজ মিশন সূত্রে জানা গেছে, মক্কা ও মদিনায় হাজিদের আবাসন, চিকিৎসা ও যাতায়াত নিশ্চিত করতে আগেই বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। প্রথম ফ্লাইটের যাত্রীদের বিমানবন্দর থেকে নির্ধারিত আবাসস্থলে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসলিম মক্কা ও মদিনা-এ সমবেত হয়ে এই ধর্মীয় আচার পালন করেন।
প্রথম ফ্লাইটের সফল অবতরণকে পরবর্তী হজ ফ্লাইটগুলোর জন্য ইতিবাচক সূচনা হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।