অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) তীব্র সংকটের কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়বে না।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে সর্বশেষ তেল পরিশোধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। সংকট মোকাবেলায় মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল এবং ট্যাংকের ‘ডেড স্টক’ ব্যবহার করেও উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল।
ইআরএল সূত্রে জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করা হলেও সংকটের কারণে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামানো হয়। সর্বশেষ মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে গেলে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ইআরএলের মহাব্যবস্থাপক (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কন্ট্রোল) তাজুল ইসলাম জানান, ক্রুড তেলের ঘাটতি ও কারিগরি সমন্বয়ের কারণে আপাতত এক সপ্তাহের জন্য রিফাইনারির কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। নতুন চালান পৌঁছালে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে পরিস্থিতির কারণে গত দুই মাস ধরে তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলেও জটিলতা দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত কয়েকটি চালান বাতিল করতে হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে এবং ইআরএলে পরিশোধন করা হয়।
উল্লেখ্য, বর্তমান সংকটের কারণে গত প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি বন্ধ রয়েছে। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন চালান দেশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। ততদিন পর্যন্ত শোধনাগারের কার্যক্রম স্থগিতই থাকবে।