ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম (EES) শুক্রবার থেকে পুরোপুরি কার্যকর হয়েছে। পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়নের শেষে এখন ইইউ জুড়ে অ-ইইউ নাগরিকদের জন্য সীমান্তে পাসপোর্টে স্ট্যাম্পের পরিবর্তে বায়োমেট্রিক তথ্য — ছবি ও আঙুলের ছাপ — ডিজিটালভাবে নিবন্ধিত করা হচ্ছে।
অক্টোবর ২০২৫ থেকে ধাপে ধাপে চালু হওয়া এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো ইউরোপে প্রবেশ ও প্রস্থান প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং সঠিকভাবে নথিভুক্ত করা।
পর্তুগালে বিলম্ব ও প্রযুক্তিগত সমস্যা
পর্তুগালে, বিশেষ করে লিসবন বিমানবন্দরে বাস্তবায়নের শুরু থেকেই অপেক্ষার সময় বেড়ে গেছে। যাত্রীদের অনেক সময় কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
১০ই ডিসেম্বর বিমানবন্দরগুলোতে EES-এর দ্বিতীয় পর্যায় চালু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়, কারণ তখন থেকেই যাত্রীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়।
অতিরিক্ত চাপ কমাতে ডিসেম্বরের শেষে সরকার লিসবন বিমানবন্দরের আগমনী এলাকায় জরুরি ব্যবস্থা ঘোষণা করে। এর অংশ হিসেবে তিন মাসের জন্য সীমিতভাবে EES কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে পুনরায় চালু হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের মন্তব্য
বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র আরিয়ানা পোদেস্তা জানান, “যখন সিস্টেমটি সঠিকভাবে কাজ করে, তখন নিবন্ধন সম্পন্ন করতে প্রায় ৭০ সেকেন্ড সময় লাগে।” তিনি স্বীকার করেন যে কিছু সদস্য রাষ্ট্র এখনও বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়েছে।
পোদেস্তা আরও বলেন, এই ব্যবস্থা “সুষ্ঠুভাবে সীমান্ত পারাপার নিশ্চিত করতে নমনীয়তা প্রদান করে,” বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে যখন ভ্রমণকারীর চাপ বাড়ে। তবে আজ থেকে সদস্য রাষ্ট্রগুলো আর পুরোপুরি সিস্টেম স্থগিত করতে পারবে না, যদিও প্রয়োজনে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা যেতে পারে।
পর্তুগালের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো
পর্তুগালের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রী নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব এখন পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশ (PSP)-এর হাতে, যা ২০২৩ সালে ফরেনার্স অ্যান্ড বর্ডারস সার্ভিস (SEF)-এর কাছ থেকে এই ক্ষমতা পেয়েছিল।
অন্যদিকে সামুদ্রিক সীমান্ত তত্ত্বাবধান করে ন্যাশনাল রিপাবলিকান গার্ড (GNR)।
EES-এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা (SSI) PSP, GNR, ANA – Aeroportos de Portugal, বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।