ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার আগেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। লেবাননে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলা এবং এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ও তার সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে, লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে ইসরায়েল মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একাধিক স্থানে ভারী বোমা হামলা চালায়। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চলছে।
এই হামলার জবাবে ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ইরাক, কুয়েত, কাতারসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বাগদাদে মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে, অন্যদিকে কাতার জানিয়েছে তারা তাদের আকাশসীমায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
কুয়েতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের তেল স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পানি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনেও হামলার অভিযোগ উঠেছে, যা দেশটির জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে ইরান অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এর প্রেক্ষিতে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি প্রধান রুট হওয়ায় এর বন্ধ হয়ে যাওয়া বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসরায়েল আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছিল, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হলেও লেবানন এই চুক্তির আওতায় নয়। ফলে সেখানে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। এরই ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে রকেট হামলার ঘটনাও ঘটেছে, যা নতুন করে সংঘাত বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। একদিকে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে, অন্যদিকে হামলা-পাল্টা হামলার কারণে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে জ্বালানি বাজারে গুরুতর সংকট তৈরি করতে পারে।