হরমুজ প্রণালীর ইতিহাসে একসময় পর্তুগাল ছিল অবিসংবাদিত শক্তি। আজ ইরানের ভূরাজনৈতিক প্রভাব যেখানে সবচেয়ে বেশি, সেখানে ১৬শ শতকে এই সংকীর্ণ জলপথ পর্তুগিজ সামুদ্রিক সাম্রাজ্যের গৌরবের প্রতীক ছিল।
ঐতিহাসিক বিবরণ অনুযায়ী, ১৫০৭ সালে আফনসো দে আলবুকার্কের নেতৃত্বে পর্তুগিজরা হরমুজ দ্বীপ দখল করে এবং সেখানে দুর্গ নির্মাণের মাধ্যমে তাদের সামুদ্রিক উপস্থিতি মজবুত করে। ভারত মহাসাগরীয় বাণিজ্যপথে আধিপত্য বিস্তারের কৌশলে হরমুজ দ্রুত পর্তুগিজদের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়।
পর্তুগালের ইতিহাসই মূলত সমুদ্রযাত্রা, আবিষ্কার ও উপনিবেশ বিস্তারের ইতিহাস। ১৫শ ও ১৬শ শতকে লিসবনভিত্তিক সাম্রাজ্য আফ্রিকা, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকাজুড়ে প্রভাব বিস্তার করে, আর হরমুজ ছিল সেই বিশ্বজয়ী নৌ-অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
১৬২২ সালে পারস্য বাহিনীর সহায়তায় ব্রিটিশরা পর্তুগিজদের হরমুজ থেকে উৎখাত করে। সেই ঘটনার পর প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে পারস্যের প্রভাববলয়ে ফিরে আসে, যদিও পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে এই জলপথের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালী বিশ্ব তেল পরিবহনের অন্যতম স্পর্শকাতর পথ। ইরানের অবস্থান, উপসাগরীয় রাজনীতির টানাপোড়েন এবং সরু সমুদ্রপথের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে এটি এখন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম বড় কেন্দ্রবিন্দু।