ইরানের ভূখণ্ডে হামলায় অংশ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে স্পেন। এর মাধ্যমে চলমান ইরান ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে নিজেদের বিরোধী অবস্থান আরও জোরালো করেছে দেশটি।
স্পেনের দৈনিক পত্রিকা এল পাইস প্রথম এ খবর প্রকাশ করে। পরে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলেস ফার্নান্দেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো কার্যক্রমে স্পেন তাদের আকাশসীমা বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। এ যুদ্ধকে তিনি ‘সম্পূর্ণ বেআইনি ও অন্যায়’ বলে উল্লেখ করেন।
এর আগে স্পেন জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে হামলা চালাতে যাওয়া যুদ্ধবিমানগুলোকে স্পেনের আকাশসীমা এড়িয়ে বিকল্প পথে যেতে হবে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে এই নিয়ম শিথিল করা হতে পারে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগে থেকেই ইরান ইস্যুতে যুদ্ধের বিরোধিতা করে আসছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান—সব পক্ষকে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি বেআইনি কাজের জবাব আরেকটি বেআইনি কাজ দিয়ে দেওয়া যায় না।
এদিকে স্পেনের এই অবস্থানে ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়েছেন।
স্পেনের অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী কার্লোস কুয়েরপো বলেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে শুরু হওয়া যুদ্ধে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমান পদক্ষেপ সেই নীতিরই ধারাবাহিকতা।
এর আগে পার্লামেন্টে বক্তব্যে পেদ্রো সানচেজ জানান, বেআইনি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে রোটা ও মোরন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি এবং ইরান সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সামরিক উড়োজাহাজের পরিকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
তবে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী ইউরোপে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিয়মিত রসদ সরবরাহ কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানিয়েছে স্পেন সরকার।