বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার মতো দ্রুত উন্নয়নশীল দেশে বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। “ওয়ার্গা আসিং জাদি বস, রাকইয়াত তেম্পাতান তেরসেপিত?” এই প্রশ্নটি কেবল আবেগ নয়, বরং বাস্তবতার প্রতিফলন, যা স্থানীয় শ্রমশক্তি, বিশেষ করে টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) থেকে উত্তীর্ণ তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
২৯ মার্চ কসমো অনলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশি শ্রমিকদের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। নির্মাণ, উৎপাদন, কৃষি এবং পরিষেবা খাতে দীর্ঘদিন ধরেই তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতিও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে শ্রমবাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
প্রধান উদ্বেগের জায়গা হলো, এই বিদেশি শ্রমিকরা এখন আর শুধু নিম্নদক্ষ কাজেই সীমাবদ্ধ নেই। তারা অনেক ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও আধা-দক্ষ (সেমি-স্কিল্ড) কাজেও যুক্ত হচ্ছে। ফলে টিভেট স্নাতকদের জন্য নির্ধারিত চাকরির ক্ষেত্র সংকুচিত হয়ে আসছে। স্থানীয় তরুণরা যেসব দক্ষতা অর্জন করছে, সেই ক্ষেত্রেই বিদেশিরা কম মজুরিতে কাজ করতে রাজি হওয়ায় নিয়োগদাতারা তাদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়নের মানদণ্ড কি পরিবর্তন করা উচিত? এতদিন “কেবোলে-পাসারান” বা ইমপ্লয়েবিলিটি-এর ওপর জোর দেওয়া হলেও, এখন “কেবোলে-পেকেরজান” বা অ্যাকচুয়াল জব প্লেসমেন্ট নিশ্চিত করাটাই কি বেশি জরুরি নয়? অর্থাৎ শুধু দক্ষতা অর্জনই যথেষ্ট নয়, বরং সেই দক্ষতা অনুযায়ী চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তাও গুরুত্বপূর্ণ।
বেলিয়া মাহির এর প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ-এর মতে, সমস্যার মূল হলো শ্রমবাজারে নীতিগত দুর্বলতা এবং নজরদারির অভাব। তিনি বলেন, বিদেশি শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ উন্নয়নের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে যখন কিছু বিদেশি শ্রমিক নিজেরাই ছোট ব্যবসা বা সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ শুরু করছে, তখন তারা কার্যত “বস” হয়ে উঠছে, যা স্থানীয়দের জন্য প্রতিযোগিতা আরও কঠিন করে তুলছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। প্রথমত, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য প্রণোদনা ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে, যেমন কর ছাড় বা ভর্তুকি।
তৃতীয়ত, টিভেট শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণকে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু এবং বাস্তব চাকরির প্রয়োজনের মধ্যে অমিল রয়েছে। এই ব্যবধান কমাতে শিল্পখাতের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় বাড়ানো জরুরি।
এছাড়া, “গান্তিকান পেকারজা আসিং দেঙ্গান তেনাগা তেম্পাতান” বা বিদেশি শ্রমিকের পরিবর্তে স্থানীয়দের নিয়োগের জন্য সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করা প্রয়োজন। এই ধরনের প্রচারণা কেবল সরকার নয়, বেসরকারি খাত এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত হওয়া উচিত।
সবশেষে বলা যায়, বিদেশি শ্রমিকরা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহ এবং ভূমিকার পরিবর্তন স্থানীয় শ্রমবাজারে চাপ সৃষ্টি করছে। যদি সময়মতো সঠিক নীতি গ্রহণ না করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে স্থানীয় তরুণরা আরও বেশি বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
অতএব, একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি গ্রহণই এখন সময়ের দাবি যেখানে দেশের অর্থনৈতিক চাহিদা এবং স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থানের অধিকার, উভয়ই সমানভাবে গুরুত্ব পাবে।