পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে দেশে সড়ক, নৌ ও রেলপথে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় মোট ৩৯৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনাই সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়েছে।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ তথ্য প্রকাশ করে।
সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রার ১৫ দিনে সারাদেশে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং অন্তত ১ হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত এবং নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার প্রাণহানি ৮.২৬ শতাংশ এবং দুর্ঘটনার সংখ্যা ৮.৯৫ শতাংশ বেড়েছে। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৩ শতাংশই ঘটেছে জাতীয় মহাসড়কে।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, এবারের ঈদযাত্রায় মোট ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। ১৪ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ প্রাণহানি
প্রতিবছরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশ এবং নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ।
দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের মধ্যে ২৭.১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭.৭৩ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান এবং ১৬.২২ শতাংশ যাত্রীবাহী বাস।
দুর্ঘটনার কারণ
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার পেছনে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে—
- মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার অবাধ চলাচল
- ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালক
- উল্টোপথে গাড়ি চালানো ও সড়কে চাঁদাবাজি
- অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ
সংবাদ সম্মেলনে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, পরিবহন খাতে পুরোনো অনিয়ম ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখনো বহাল রয়েছে, যা দুর্ঘটনা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
প্রস্তাবনা ও করণীয়
দুর্ঘটনা কমাতে সংগঠনটি কয়েকটি সুপারিশ করেছে—
- সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো ও স্মার্ট ভাড়া পদ্ধতি চালু
- মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ
- জাতীয় মহাসড়কে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা
- চালকদের প্রশিক্ষণ ও নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করা
এদিকে একই সময়ে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২ হাজার ১৭৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই তুলে ধরছে।