বাংলাদেশে ব্যবহৃত জ্বালানির বড় একটি অংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ক্রুড ও পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে, যার পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্চ মাসে প্রায় দুই লাখ তিরানব্বই হাজার টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও এর মধ্যে প্রায় ষাট হাজার টনের অর্ডার বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি আমদানির খরচ আরও বাড়তে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি হয়ে দাঁড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে ঋণ সহায়তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে প্রায় একশ ত্রিশ কোটি ডলার ছাড় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ইতোমধ্যে পঞ্চাশ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা অনুমোদন দিয়েছে, যা পরবর্তীতে আরও বাড়তে পারে। ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকও দুই শতাধিক কোটি ডলার ঋণ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের সহযোগী সংস্থা থেকেও অতিরিক্ত সহায়তা আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব অর্থ জ্বালানি আমদানির খরচ মেটাতে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরকারি পর্যায়ে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আস্থা অর্জনের ফলে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা অর্থনীতিকে সচল রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ঋণের পরিমাণ বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। এতে আমদানি ব্যয়ের সক্ষমতা কমে আসা এবং মূল্যস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সরাসরি ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। বরং স্বল্প সুদে ঋণের উৎস খুঁজে বের করে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধানের দিকে এগোতে হবে। এদিকে চলতি মাসে জ্বালানি বহনকারী মোট আঠারোটি জাহাজ আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত অর্ধেকের মতো জাহাজ দেশে পৌঁছেছে, যা সরবরাহ পরিস্থিতির ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।