পবিত্র ভূমি সিনাই মরুপ্রান্তরের নিস্তব্ধতা ভেদ করে, ইতিহাসের গভীরতা আর আধ্যাত্মিকতার আবেশে এক অনন্য অভিযাত্রায় অংশ নিলেন মিশরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। প্রবাসে থেকেও জ্ঞানের আলোকে হৃদয়ে ধারণ করার এক মহতী প্রচেষ্টায়, মিশরের বাংলাদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘দারুল আজহার বাংলাদেশ’ আয়োজন করে ঈদ-পরবর্তী এক ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা সফর। এই সফরের গন্তব্য ছিল ঐতিহাসিক তূর পাহাড় এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি দাহাব।
গত রবিবার (২২ মার্চ, ২০২৬) দুপুর ২টায় শুরু হওয়া এই সফরে প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন। এটি কেবল একটি সাধারণ ভ্রমণ ছিল না; বরং পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানকে বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করার এক জীবন্ত প্রয়াস—যেখানে ইতিহাসের পাতা যেন জীবন্ত হয়ে ধরা দিয়েছিল মরুভূমির বালুকণায়।
সফরের প্রতিটি পর্বেই ছিল সুচিন্তিত পরিকল্পনার ছোঁয়া। উন্নতমানের পরিবহন ব্যবস্থা, অভিজ্ঞ ট্যুর গাইড, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রটোকল এবং মানসম্মত খাবার—সব মিলিয়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য তৈরি হয়েছিল এক স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ। এছাড়া সাংস্কৃতিক পরিবেশনার রঙিন আয়োজন পুরো সফরে যোগ করেছিল ভিন্ন মাত্রা।
এই সফরের মূল আকর্ষণ ছিল ঐতিহাসিক তূর পাহাড়—যেখানে মহান আল্লাহর সাথে হযরত মূসা (আ.)-এর সংলাপের স্মৃতি আজও অম্লান। সেই পবিত্র ভূমিতে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা এক অপার্থিব প্রশান্তি অনুভব করেন। এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে তারা পরিদর্শন করেন ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য সেন্ট ক্যাথরিন মোনাস্ট্রি, যেখানে রয়েছে নবী মূসা (আ.)-এর ব্যবহৃত কুয়া ও ঐতিহাসিক ‘বার্নিং বুশ’ (জ্বলন্ত ঝোপ)। বিভিন্ন প্রাচীন মাকবারা ও ইবাদতখানা পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইতিহাসের এক গভীর সংযোগ খুঁজে পান। এরপর দাহাব-এর নীল জলরাশি আর নির্মল বাতাস তাদের ক্লান্তি দূর করে মনে প্রশান্তি এনে দেয়।
সফরে অংশ নেওয়া একজন শিক্ষার্থী আবেগভরে বলেন, “এটি আমাদের জীবনের এক অনন্য শিক্ষণীয় অধ্যায়। ইতিহাসকে এত কাছ থেকে অনুভব করা সত্যিই এক বিরল অভিজ্ঞতা।প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শায়েখ হাবিবুল বাশার আজহারী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমরা বিশ্বাস করি, এই সফরের স্মৃতি তাদের কর্মজীবনে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।” তিনি ভবিষ্যতে এমন শিক্ষামূলক ও আত্মিক বিকাশমুখী আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে বলা যায়, এই শিক্ষা সফর কেবল একটি ভ্রমণ ছিল না; বরং এটি হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের জীবনের এক অমূল্য সঞ্চয়—যা তাদের জ্ঞান, চেতনা ও মূল্যবোধকে করেছে আরও সমৃদ্ধ।