ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিজানিকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাৎজ এক বিবৃতিতে বলেন, সোমবার রাতে লারিজানিকে হত্যা করা হয়েছে। একই ঘটনায় তেহরানের বাসিজ আধা-সামরিক বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, দেশটির সেনাপ্রধান প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান লারিজানি এবং বাসিজ বাহিনীর প্রধান সোলেইমানি সোমবার রাতে হামলায় নিহত হয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি তেহরান। ইরান সরকারও লারিজানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত সামরিক অভিযানের ১৮তম দিনে এই দাবি সামনে এলো। ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত হলে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের নেতৃত্বে এটিকে অন্যতম বড় ও আলোচিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লারিজানিকে ‘হত্যা প্রকল্পের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, নিহত নেতারা এখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সঙ্গে ‘জাহান্নামের গভীরে’ অবস্থান করছেন।
এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তেহরানে লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলা চালিয়ে বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়েছে। গত ছয় বছর ধরে তিনি এই বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর অধীন বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির বিভিন্ন বিক্ষোভ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
ইসরায়েলের সামরিক প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক অভিযানে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক সাফল্য অর্জন করেছে।