মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের দ্রুত দেশ ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের জরুরি বার্তায় বলা হয়েছে, যারা সৌদি আরবে আছেন তারা যেন যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিক ফ্লাইটে করে দেশ ছেড়ে যান।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, অঞ্চলের পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে দূতাবাসের বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
দূতাবাসের তথ্যমতে, রিয়াদ, জেদ্দা এবং দাম্মামের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলো এখনো চালু রয়েছে। তবে আকাশপথে সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় ফ্লাইট চলাচলে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। যাত্রীদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যেসব মার্কিন নাগরিক এখনই সৌদি আরব ছাড়তে পারছেন না, তাদের বাড়ি বা কাছাকাছি কোনো নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খাবার, পানি, ওষুধসহ জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শও দিয়েছে দূতাবাস। অপ্রয়োজনীয় বাইরে যাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সৌদি আরবে নিযুক্ত দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতির কারণে সৌদি আরবে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা মার্কিন নাগরিকদেরও সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবতে বলা হয়েছে। সম্ভাব্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মার্কিন স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা, সশস্ত্র সংঘাত ও সন্ত্রাসী ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিতে বলা হয়েছে সতর্কবার্তায়।
পটভূমিতে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের আলোচনা। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সেই আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ার পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইরানে একটি সামরিক অভিযান শুরু করে এবং একই সময়ে ইসরাইলও আলাদা সামরিক অভিযান চালায়।
এর জবাবে ইরান ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে একাধিকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, দূতাবাস এবং তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করেও কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।