মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পূর্ব এশিয়ার পরিস্থিতি। এ অবস্থায় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার পরপরই উত্তর কোরিয়া জাপান সাগরের দিকে একযোগে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে রাজধানী পিয়ংইয়ং সংলগ্ন এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে জাপান কোস্টগার্ড এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়ায় মোতায়েন করা টার্মিনাল হাই-অল্টিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ব্যবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে আকাশপথে সম্ভাব্য হামলার ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রায় এক দশক আগে সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে দক্ষিণ কোরিয়াকে সুরক্ষা দিতে দেশটিতে থাড মোতায়েন করেছিল।
এদিকে থাড সরিয়ে নেওয়ার খবর প্রকাশের পরপরই জাপান সাগরের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত শক্তি প্রদর্শন ও সামরিক বার্তা দেওয়ার কৌশল।
উল্লেখ্য, গত দুই দশক ধরে নিয়মিতভাবে জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর ও কোরিয়া প্রণালী অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে আসছে পিয়ংইয়ং। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জেরে ২০০৬ সালেই উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জাতিসংঘ, তবে তাতেও দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থামেনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয় সিউল। দেশটির প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিউং জানিয়েছেন, থাড সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
এরই মধ্যে এই প্রতিবেদন প্রকাশের একদিনের মধ্যেই উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।