ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াইয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তবে যুদ্ধ শুরুর দুই সপ্তাহের আগেই বড় ধরনের চাপে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
বুধবার (১১ মার্চ) মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ছোঁড়া ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে গিয়ে প্রতিরোধক মিসাইল বা ইন্টারসেপ্টরের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর অস্ত্রভাণ্ডারে থাকা গোলাবারুদ দ্রুত কমে যাচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, সীমিত ইন্টারসেপ্টর মজুদের কারণে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এখন বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে হচ্ছে। কোন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হবে আর কোনটি উপেক্ষা করা হবে—এ ধরনের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সামরিক কর্তৃপক্ষকে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই সংকট মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, যুদ্ধের তীব্রতার তুলনায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের গতি অনেক ধীর।
এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ কোরিয়া থেকে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘থাড’ সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে। পেন্টাগনের তথ্যমতে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মিত্র দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হেগসেথ এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং মিত্রদের অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূরণে তাদের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যে কৌশলে একসঙ্গে বহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ‘স্যাচুরেশন অ্যাটাক’ চালাচ্ছে, তাতে প্রতিরোধে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের ব্যয় অত্যন্ত দ্রুত বাড়ছে। একটি ব্যয়বহুল ইন্টারসেপ্টর দিয়ে তুলনামূলক সস্তা ড্রোন ভূপাতিত করা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত—উভয় দিক থেকেই বড় চাপ তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, চলমান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। তখন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও তেল শোধনাগারগুলো সরাসরি হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।