মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দারুণ বোলিংয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। তরুণ পেসার নাহিদ রানা নিজের গতিময় বোলিং ও বাউন্সে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে দেন। তার সঙ্গে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের কার্যকর বোলিংও বড় ভূমিকা রাখে।
ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের এটি সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে তাদের সর্বনিম্ন ছিল ১৬১ রান।
ম্যাচে পাকিস্তান টস হেরে ব্যাট করতে নামে। শুরুতে তারা কিছুটা সতর্কভাবে খেললেও প্রথম আঘাতটি হানে নাহিদ রানা। নিজের প্রথম স্পেলের শেষ বলে তিনি ওপেনার শাহিবজাদা ফারহানকে আউট করেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে পাকিস্তানের ব্যাটাররা উইকেট হারাতে থাকে।
অভিষিক্ত ব্যাটার শামিল হোসেন একবার জীবন পেলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। অন্য ওপেনার সাদাকাত শর্ট বল সামলাতে না পেরে আউট হন। দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানও নাহিদের গতিময় ডেলিভারিতে উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন।
১৮তম ওভারে সালমান আলি আঘাও নাহিদের বাউন্সারে ক্যাচ তুলে দিলে পাকিস্তানের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এরপর স্পিনে আঘাত হানেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেন। হোসেইন তালাতকে এলবিডব্লিউ করে তিনি দলের সপ্তম উইকেট নেন।
পাকিস্তান অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদি ক্রিজে নেমে একটি চার মারলেও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। মিরাজের বলে আউট হয়ে তিনি ফিরলে দলটি আরও বিপাকে পড়ে। পরে মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র তাসকিন আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ দিলে নবম উইকেটের পতন ঘটে।
শেষদিকে ফাহিম আশরাফ কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ৪৭ বলে ৩৭ রান করেন এবং দলকে একশ পার করান। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে আউট করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এতে ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানেই থেমে যায় পাকিস্তানের ইনিংস।
ম্যাচে নাহিদ রানা ৭ ওভার বোলিং করে ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ৩ উইকেট। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান একটি করে উইকেট শিকার করেন।