সোমবার (৯ মার্চ) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স মিডিয়া সেন্টারে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি জানান, শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে কাজ চলছে। তাঁর মতে, এই প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং অচিরেই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ইতোমধ্যে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দায়ের হয়েছে, যাদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত তাইজুল ইসলাম চৌধুরী (বাপ্পী) এবং গুলিবর্ষণকারী ফয়সাল করিমের নাম উল্লেখযোগ্য।
আইজিপি আরও জানান, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী ও উগ্রপন্থীদের তালিকাভুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে গিয়ে অভিযান চলছে এবং ঈদযাত্রার সময় মহাসড়কে ছিনতাই, ডাকাতি বা চাঁদাবাজির মতো অপরাধ সংঘটিত হতে দেওয়া হবে না। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ ছাড়া বেতন-ভাতা নিয়ে শ্রমিক অসন্তোষ এড়াতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে, যাতে জঙ্গিবাদের উত্থান রোধ করা যায়।
পুলিশের দুর্নামের জন্য কতিপয় সদস্য দায়ী বলে মন্তব্য করে আইজিপি জোর দেন, পদোন্নতি ও পদায়নে স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ থাকবে না। সৎ ও যোগ্য লোকদের রাখা হবে বাহিনীতে—‘দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো’। সিআইডি আধুনিকায়ন, থানাগুলোকে জিরো কমপ্লেইনের রূপান্তর এবং থানায় ম্যাজিস্ট্রেট সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। তিনি পুলিশ সদস্যদের অতি উৎসাহ এড়াতে এবং জনগণকে আইন মেনে চলার পরামর্শ দেন।
ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল বলে পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনাস্থল ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে হাদি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং আইজিপির এই ঘোষণা তদন্তের গতি বাড়ানোর আশা জাগিয়েছে।