নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে রোববারের ফাইনালে আগে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে ভারত, যা টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৯ ওভারে ১৫৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় নিউজিল্যান্ড, ফলে ৯৬ রানের বড় জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা জিতে নেয় সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারত। এর মধ্য দিয়ে প্রথম দল হিসেবে টানা দুই আসরে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পাশাপাশি তিনবার এই শিরোপা জয়ের নজির গড়ল ভারত, আর স্বাগতিক দল হিসেবে বিশ্বকাপ জয়েরও ইতিহাস লিখল তারা।
প্রায় ৮৬ হাজারের গর্জনমুখর সমর্থনে শুরু থেকেই ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালান ভারতের টপ অর্ডার। ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ৪৬ বলে ৮৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ছয়-চার মিলে বহু বাউন্ডারি, আর এই ধারাবাহিক ফর্মের কারণেই পুরো আসরে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গী ঈশান কিশান মাত্র ২৫ বলে ৫৪ ও তিন নম্বরে নেমে অভিষেক শর্মা ২১ বলে ৫২ রান করে ভারতের স্কোরকে প্রায় অপরাজেয় উচ্চতায় তুলে নেন। শেষ দিকে শিবম দুবে অপরাজিত ২৬ এবং হার্দিক পান্ডিয়া দ্রুতগতির ১৮ রান করে দলকে ২৫৫ পর্যন্ত নিয়ে যান; নিউজিল্যান্ডের হয়ে জেমস নিশাম ৪ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন, বাকি দুটি উইকেট ভাগাভাগি করেন রাচিন রবীন্দ্র ও ম্যাট হেনরি।
এত বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপের মুখে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারের মধ্যেই ফিন অ্যালেন ফিরলে কাঁপতে থাকে কিউই শিবির, পাওয়ার প্লের শেষে তাদের স্কোর দাঁড়ায় ৬ ওভারে ৫২/৩। এক প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান ওপেনার টিম সাইফার্ট; তিনি শেষ পর্যন্ত ২৬ বলে ৫২ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন, আর মাঝের দিকে মিচেল স্যান্টনার ৪৩ রান করলেও চাপ কাটাতে পারেননি। ইনিংসের অর্ধেক পথ পেরোতেই ১০ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ৮৮ রানে দাঁড়িয়ে যায় নিউজিল্যান্ড, সেখান থেকে আবারও শক্ত লড়াইয়ে ফেরার মতো কিছু আর বাকি ছিল না।
বল হাতে ভারতের পক্ষে ধ্বংসযজ্ঞ চালান যশপ্রীত বুমরা। দারুণ নিয়ন্ত্রণ আর বৈচিত্র্যে ভর করে তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট, যা তাঁকে ম্যাচসেরার পুরস্কার এনে দেয়। তাঁকে দারুণ সঙ্গ দেন বাঁহাতি স্পিনার অক্ষর প্যাটেল, ৪ ওভারে ২৭ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট; হার্দিক পান্ডিয়া নেন ১ উইকেট, আর ভারতের স্পিন-ফাস্ট সমন্বিত আক্রমণে শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারের মধ্যেই গুটিয়ে যায় কিউইদের ইনিংস। বোলিংয়ে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে বুমরা এবং রহস্য স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী সমান ১৪টি করে উইকেট নিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে আসর শেষ করেন বলে স্কোরকার্ডে উল্লেখ আছে।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বুমরা বলেন, ঘরের মাঠে এর আগে খেলা এক ফাইনালে হতাশা সঙ্গী হয়েছিল, তাই এদিন শিরোপা জেতা তাঁর কাছে বিশেষ অনুভূতি নিয়ে এসেছে। তিনি জানান, ফাইনালে ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে সব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত বোলিং করাই তাঁর লক্ষ্য ছিল। অন্যদিকে, টানা তিন ইনিংসে ৮০–এর বেশি রান করে স্যামসন ব্যাট হাতে আধিপত্য দেখিয়ে সিরিজসেরার পুরস্কার জেতেন; ভারতীয় ড্রেসিংরুম এবং গ্যালারির উন্মাদনা মিলিয়ে আহমেদাবাদে ফাইনালের রাতটা রূপ নেয় এক উৎসবের আসরে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
-
ভারত: ২০ ওভারে ২৫৫/৫ – সঞ্জু স্যামসন ৮৯, ঈশান কিশান ৫৪, অভিষেক শর্মা ৫২, শিবম দুবে ২৬*, হার্দিক পান্ডিয়া ১৮; জেমস নিশাম ৩/৪৬, রাচিন রবীন্দ্র ১/৩২, ম্যাট হেনরি ১/৪৯।
-
নিউজিল্যান্ড: ১৯ ওভারে ১৫৯ – টিম সাইফার্ট ৫২, মিচেল স্যান্টনার ৪৩, ড্যারিল মিচেল ১৭; যশপ্রীত বুমরা ৪/১৫, অক্ষর প্যাটেল ৩/২৭, হার্দিক পান্ডিয়া ১/৩৬।
-
ফল: ভারত ৯৬ রানে জয়ী।
-
ম্যাচসেরা: যশপ্রীত বুমরা।
-
সিরিজসেরা: সঞ্জু স্যামসন