দেশের বাজারে তেজাবী স্বর্ণের (পাকা সোনা) মূল্য কমে যাওয়ায় স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে পাকা সোনার দর সমন্বয় করে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতিভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে, যা সোমবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে বলে বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। আপনার পাঠানো তথ্যে ২২ ক্যারেটের নতুন দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা ধরা হয়েছে, যদিও সাম্প্রতিক অন্য কিছু প্রতিবেদনে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৮ টাকায় নামানোর উদাহরণও দেখা গেছে, যা দাম পরিবর্তনের ঘন ঘন প্রবণতাকে নির্দেশ করে।
বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি সোমবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের নতুন এই মূল্য তালিকা প্রকাশ করে। কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণের মূল্য হ্রাস এবং সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা, যা এর আগের দামের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম।
একই সঙ্গে অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও আনুপাতিক হারে কমানো হয়েছে। নতুন তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা। সনাতন পদ্ধতিতে তৈরি স্বর্ণের প্রতি ভরি নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা, যা পূর্বের তুলনায় ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে জুয়েলারি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাজুস সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা, ডলারের মান, আমদানি ব্যয় ও স্থানীয় তেজাবী সোনার পাইকারি দর—সব কিছু মিলিয়ে প্রায় পুরো বছরজুড়েই স্বর্ণের দাম বারবার সমন্বয় করতে হচ্ছে। ২০২৬ সালে ইতোমধ্যে বহুবার স্বর্ণের দাম বাড়ানো–কমানোর নজির তৈরি হয়েছে; আগের একাধিক বিজ্ঞপ্তিতে কখনো কয়েক হাজার টাকা করে বাড়ানো, আবার কখনো ধারাবাহিকভাবে কমানোর সিদ্ধান্তও দেখা গেছে। স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজারেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে বেশ অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে, কয়েক দফা দাম বৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতা ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছিল বলে জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা স্বীকার করছেন। বিশেষ করে বিয়ে, উৎসব কিংবা গহনা তৈরির মৌসুমে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় চলে যাওয়ায় অনেক পরিবার পরিকল্পনা বদলাতে বা ক্রয় সীমিত করতে বাধ্য হয়। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এবার দাম কিছুটা কমায় যারা দীর্ঘদিন ধরে গয়না কেনা বা পুরোনো গয়না বদলানোর সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রেখেছিলেন, তারা নতুন করে ক্রয়ে আগ্রহী হতে পারেন।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম সমন্বয় করায় স্বর্ণের অবৈধ আমদানি ও পাচার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়। তারা বলছেন, ঘন ঘন মূল্য সমন্বয় একদিকে স্বর্ণবাজারকে অস্থির করে তুললেও, অন্যদিকে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে বাজারকে বাস্তব অবস্থার কাছে নিয়ে আসার সুযোগও তৈরি করে। তবে ক্রেতাদের জন্য মূল বিষয় হচ্ছে, পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই নতুন মূল্যই কার্যকর থাকবে—তাই স্বর্ণ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সবাইকে বাজুসের সর্বশেষ ঘোষণাটি যাচাই করার পর ক্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা