তুর্কী অধ্যুষিত নর্থ সাইপ্রাসের গিরনা অঞ্চলে চুরির মিথ্যা অভিযোগে ৬ বাংলাদেশিকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে স্থানীয় পুলিশ। ‘হাংগ্রি হাউজ’ নামক একটি রেস্টুরেন্টের তুর্কিশ মালিকের দায়ের করা মামলায় গত ১ মার্চ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আগামী শুক্রবার অভিযুক্তদের আদালতে তোলার কথা রয়েছে।
কারাগারে আটক বাংলাদেশিরা হলেন— শাহাদাৎ হোসেন, রাজু আহমেদ, আরিফুর রহমান, মোঃ শাউন মিয়া, শাউন হোসেন ও শিহাবুর রহমান। তারা গত দুই বছর ধরে ওই রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনার নেপথ্যে যা জানা গেছে,নর্থ সাইপ্রাস বাংলাদেশ কমিউনিটির সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইমাম হোসেন জানান, প্রায় দুই বছর আগে ২২ জন বাংলাদেশি ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় ওই রেস্টুরেন্টে কাজে আসেন। তবে আসার পর থেকেই তারা মালিকপক্ষের চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। চুক্তিমতো বেতন না দিয়ে উল্টো তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো। একবার বেতন নিয়ে বিরোধের জেরে পুলিশ মালিককে গ্রেপ্তারও করেছিল। ৫ দিন জেল খেটে বের হওয়ার পর থেকেই ওই মালিক প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন।
ইমাম হোসেন আরও জানান, শ্রমিকরা অন্য কোথাও কাজ করার অনুমতি চাইলে মালিক তাদের পাসপোর্ট জব্দ করে রাখেন। এই চক্রে স্থানীয় দালালেরাও জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বেতন বকেয়া ও মিথ্যা মামলায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেস্টুরেন্টটির আরেক বাংলাদেশি কর্মী জানান, নিয়োগের প্রথম ৭ মাস তাদের কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। বর্তমানে প্রত্যেকেরই অন্তত ৬ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। চুক্তিতে ৪০ হাজার লিরা বেতনের কথা থাকলেও দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২০ হাজার লিরা (প্রায় ৫৫ হাজার টাকা)।
তিনি আরও জানান, প্রায় ৬ মাস আগে রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। অথচ সেই পুরনো ঘটনার দায় এখন ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই বাংলাদেশি কর্মীদের ওপর চাপানো হচ্ছে। নর্থ সাইপ্রাসের অনেক রেস্টুরেন্টেই বেতন বকেয়া রাখা এবং টাকা চাইলে পুলিশি হয়রানির ভয় দেখানো একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
অভিভাবকহীন প্রবাসী বাংলাদেশিরা নর্থ সাইপ্রাসে শক্তিশালী কোনো কমিউনিটি সংগঠন বা বাংলাদেশের স্থায়ী দূতাবাস না থাকায় প্রবাসীরা চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। তুর্কিশ মালিক ও দালালচক্রের সিন্ডিকেটের কাছে তারা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে যারা নর্থ সাইপ্রাসে আসার পরিকল্পনা করছেন, তাদেরকে পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রবাসীরা।