সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) হিসেবে এক বছরের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী এসএসএফের সুরক্ষা সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে তাঁর দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছরের জন্য এসএসএফের সুরক্ষা–সুবিধাসহ ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ মর্যাদা প্রদান করা হলো। তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব ও বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত মো. সাইফুল্লা পান্নার স্বাক্ষরে জারি হওয়া ওই আদেশে নিরাপত্তা–ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। সাইফুল্লা পান্না গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসন অধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়। ওই দিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব থেকে সরে গেলেও বিশেষ আইনি ব্যবস্থার আওতায় ইউনূস আরও অন্তত এক বছর রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুবিধার আওতায় থাকছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর একই বছরের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। শান্তিতে নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদের ওপর তখনই রাজনৈতিক উত্তরণ, গণতান্ত্রিক সংস্কার আর মানবাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ভার দেয় বিভিন্ন পক্ষ। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর মেয়াদে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং নতুন নির্বাচন আয়োজন—সবকিছু মিলিয়ে ইউনূস দেশে–বিদেশে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে তাঁর ভূমিকা, বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা—এই সবকিছুর সমন্বিত প্রেক্ষাপট বিবেচনায় তাঁকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাষ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের নানা সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বিভিন্ন পক্ষ, পুরোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার ঝুঁকি বিবেচনায় ইউনূসকে এসএসএফের নিরাপত্তার আওতায় রাখতে চায় রাষ্ট্র।
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে অবদানের জন্য শান্তিতে নোবেল পুরস্কারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের অভিজ্ঞতা তাকে আবারও বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে, যার ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব ছাড়লেও নিরাপত্তা–সুবিধা এক বছরের জন্য বহাল থাকছে