মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা ছিল এমন প্রায় সব ব্যক্তিকেই হত্যা করা হয়েছে। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, শনিবার পরিচালিত এই যৌথ অভিযান এতটাই সফল ছিল যে ইরানের সম্ভাব্য উত্তরসূরি নেতৃত্ব কার্যত অকার্যকর হয়ে গেছে। তার ভাষায়, ‘আমরা যাদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছিলাম, তারা আর কেউই ক্ষমতায় আসতে পারবে না; কারণ তারা সবাই মৃত। এমনকি দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির নেতারাও এতে নিহত হয়েছেন।’
ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর দেশটিতে ক্ষমতা হস্তান্তর কোন পথে এগোবে এ নিয়ে যখন তীব্র আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। খামেনিকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ‘তিনি মারা যাওয়ার আগেই আমি তাকে শেষ করেছি। তারা দুবার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমিই আগে তাকে কুপোকাত করেছি।’ তার এই বক্তব্য ইঙ্গিত করে যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চলমান অভিযান অনেক দিন ধরেই পরিকল্পিত ছিল।
ট্রাম্পকে হত্যার ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে তাকে হত্যার চেষ্টা হয়েছিল এবং সে ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ইতোমধ্যে ফেডারেল মামলাও করেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ফরহাদ শাকেরি নামের এক সন্দেহভাজনকে ট্রাম্পের ওপর নজরদারি ও হামলার দায়িত্ব দিয়েছিলেন ইরানি কর্মকর্তারা। ট্রাম্পের অভিযোগ, ওই ষড়যন্ত্রই প্রমাণ করে ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্যও হুমকি।
নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানে ক্ষমতা হস্তান্তরের ভবিষ্যৎ মডেল হিসেবে ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টানেন। তার মতে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের পর যেমন সীমিত পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতার কাঠামো পুনর্গঠিত হয়েছে, তেমনি ইরানেও কয়েকজন মূল ব্যক্তিকে সরিয়ে রেখে বাকি প্রশাসনিক কাঠামো রাখা হতে পারে। তিনি বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় আমরা যা করেছি, সেটি একটি নিখুঁত মডেল; সেখানে মাত্র দুইজন ব্যক্তি ছাড়া বাকিরা নিজ নিজ পদে বহাল রয়েছে।’
ইরানের পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, তার কাছে ‘খুব ভালো তিনটি বিকল্প’ রয়েছে। তবে এখনই তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি নন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আগে কাজ শেষ হোক, তারপর জানাব।’ বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘তিন বিকল্প’ প্রসঙ্গ ইঙ্গিত করছে যে ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ইরানের ভেতরে বা প্রবাসী মহলে সম্ভাব্য বিকল্প নেতৃত্ব নিয়ে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে দেশটির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
ইরানে সাম্প্রতিক এই হামলা ও ট্রাম্পের কড়া অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড এবং সরকারি মহল একযোগে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল জোটের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে ভয়ঙ্কর’ পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে, যা আঞ্চলিক সংঘাতকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ দেওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে