ইরানের প্রতিশোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আজমানে এক বাংলাদেশী নাগরিক নিহত হয়েছেন। নিহত সালেহ আহমেদ (৪৮) মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেকা (বাঁশতলা) গ্রামের সবর আলীর ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে ইউএইয়ে বসবাসকারী ছিলেন।
নিহতের পরিচয় ও পেশা
সালেহ আজমানে পানির ডেলিভারি গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি ইফতারের পর সহকর্মীর সঙ্গে জরুরি খাদ্য ও পানীয় সরবরাহের জন্য বেরিয়েছিলেন যখন আকাশে উজ্জ্বল বস্তু দেখা যায় এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
তার শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে এবং স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ১ মার্চ সকালে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়।
হামলার প্রেক্ষাপট
ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের হামলায় মোট তিনজন নিহত হয়েছেন—একজন বাংলাদেশী, একজন পাকিস্তানী এবং একজন নেপালী নাগরিক। এছাড়া ৫৮ জন বিভিন্ন জাতীয়তার মানুষ ছোটখাটো আহত হয়েছে।
হামলায় ইরান ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার ১৫২টি ধ্বংস করা হয় এবং ১৩টি সমুদ্রে পড়ে; দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র অবরোধ করা হয়। এছাড়া ৫৪১টি ইরানি ড্রোনের মধ্যে ৫০৬টি ধ্বংস করা হয়েছে, তবে ৩৫টি দেশের ভেতর পড়ে উপকরণগত ক্ষতি করে।
ইরানি হামলার কারণ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর পর ইরান খाड़ি অঞ্চলে পাল্টা অভিযান শুরু করে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউএইসহ দুবাই, দোহা, মনামা ও রিয়াদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ইউএই কর্তৃপক্ষ নাগরিক, বাসিন্দা ও পরিদর্শকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অফিসিয়াল সূত্র থেকে খবর নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে