ইরানের নিক্ষেপিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় কমপক্ষে ৮ জন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এই হামলাকে ইরান নিজ দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর গৃহীত পাল্টা অভিযানের অংশ হিসেবে বর্ণনা করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মাধ্যম।
রবিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে জেরুজালেম থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত বেইত শেমেশ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি একটি ভবনের নিচতলায় অবস্থিত জনসাধারণের জন্য নির্মিত বোমা–আশ্রয়কেন্দ্র এবং আশপাশের কয়েকটি বাসা-বাড়িতে আঘাত হানলে ওই ভবনের একটি অংশ ধসে পড়ে।
মাজেন ডেভিড আডোম (এমডিএ) জরুরি সেবা সংস্থা এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দলের হিসাব অনুযায়ী, অন্তত ৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ২৩ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত দুই থেকে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাদের মধ্যে একজন প্রায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এমডিএর কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও কয়েকটি মরদেহ উদ্ধারের পর প্রাথমিকভাবে কম থাকা নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ইরানি হামলার বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তাদের বহুপদী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা—আয়রন ডোম, ডেভিড’স স্লিং এবং অ্যারো—অবরোধ করতে সক্ষম হয়। তবে এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে সরাসরি লক্ষ্যভেদ করেছে বলে সামরিক বাহিনী স্বীকার করেছে এবং অবরোধ ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আইডিএফের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানি শাসকগোষ্ঠী সচেতনভাবেই বেসামরিক আবাসিক এলাকা ও বোমা–আশ্রয়কেন্দ্রকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ইরানের দাবি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলোকে তারা ‘অপারেশন অনেস্ট প্রমিস ৪’–এর অংশ হিসেবে দেখছে, যা তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং আরও কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতার মৃত্যুতে নেওয়া প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা।
একই দিন ও এর আগের রাতে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও কয়েকজন নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে; সামগ্রিকভাবে সাম্প্রতিক এ সব হামলায় ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা কয়েকজনের বেশি এবং আহত শতাধিকের ঘরে পৌঁছেছে।