ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শনিবার ভোরে তেহরানে তার কার্যালয়ে কাজ করার সময় নিহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয় এবং তার মৃত্যুর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি উপগ্রহচিত্র বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করেছে যে তেহরানের লিডারশিপ হাউস কমপাউন্ডের কিছু অংশে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে, যেখানে খামেনির কার্যালয় ছিল। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর–সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা তাসনিম বলেছে, নিজ কার্যালয়ে তার মৃত্যু প্রমাণ করে যে এতদিন ধরে তার লুকিয়ে থাকার খবর শত্রুপক্ষের মানসিক যুদ্ধের অংশ ছিল।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে খামেনি নিহত হওয়ার দাবি করেন। তিনি তাকে ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর ব্যক্তি আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে এই হামলা চালানো হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত বিমান হামলা চলবে। একই সঙ্গে ইরানের বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান তিনি। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর বক্তব্যের পর ট্রাম্পের এই দাবি আসে।
মৃত্যুর ১১ দিন আগে দেওয়া শেষ জনসম্মুখের ভাষণে খামেনি প্রতিরোধক্ষমতা জোরদারের জন্য উন্নত অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছিলেন। জেনেভায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরোক্ষ আলোচনা শুরু হওয়ার সময় দেওয়া সেই বক্তৃতায় তিনি বলেন, কোনো দেশের প্রতিরোধক শক্তি না থাকলে তা শত্রুর পায়ের তলায় মিশে যেতে বাধ্য। যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার যে কথা বলছে, তা ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনীও এমন আঘাত পেতে পারে যার পর আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয় না।
ইরানি সূত্র জানিয়েছে, শনিবার তার প্রাসাদ লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় সেটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মাত্র একদিনের ব্যবধানে দেশটি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এই ঘটনার পর ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।