বাংলাদেশে গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সরকারের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার এই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে দায়মুক্তি সম্পর্কিত অধ্যাদেশকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার বিষয়ে ইতিমধ্যেই ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আদেশসহ কিছু অধ্যাদেশ নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আঠারো মাসের ব্যবধানে এত অধ্যাদেশ জারি হয়েছে যে গড়ে প্রতিটি অধ্যাদেশের জন্য পাঁচ দিনের কম সময় ব্যয় হয়েছে। আইনজ্ঞরা বলছেন, নতুন জাতীয় সংসদে প্রথম অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে যদি অধ্যাদেশগুলোর আইনি স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তবে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা ‘মৃত’ হিসেবে গণ্য হবে।
বিএনপি সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তারা এখন সমস্ত অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করছে। সংবিধানসংক্রান্ত সাংঘর্ষিক অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, আর প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশগুলোই সংসদে উত্থাপন করে আইনগত স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
দায়মুক্তি সম্পর্কিত অধ্যাদেশটি সরকারের পক্ষ থেকে অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ওই সময় পুলিশের অভিযুক্ত হত্যাকাণ্ড বা অন্যান্য ফৌজদারি অপরাধ আলাদা তদন্তের আওতায় থাকবে।
অন্যদিকে, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার অধ্যাদেশগুলোও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে উচ্চআদালতে চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা থাকায় বিএনপি সরকারকে রাজনৈতিক এবং বাস্তবিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সংক্ষেপে, অন্তর্বর্তী সরকারের সব অধ্যাদেশ নয়, নির্দিষ্ট কয়েকটি অধ্যাদেশই আইনি স্বীকৃতি পাবে এবং অন্য অধ্যাদেশগুলোর অধীনে পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের বৈধতা হারাতে পারে।