অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, উপদেষ্টা পরিষদের ভেতরে একটি ছোট পরিসরের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী বলয় ছিল, যেখানে তাকে রাখা হয়নি। তার দাবি, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো সম্পর্কে তিনি অবহিত ছিলেন না এবং অনেক ক্ষেত্রেই তার সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজন মনে করা হয়নি। ফলে সরকারের ভেতরের নানা সিদ্ধান্ত কীভাবে হয়েছে সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ধারণা পাননি। চ্যানেল ওয়ানের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেই সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত নাজুক এবং পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়েছিল। বিভিন্ন থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনার কারণে বাহিনী মাঠে নামতে অনাগ্রহী ছিল। আলোচনার মাধ্যমে তাদের কাজে ফিরিয়ে আনা এবং ট্রাফিক পুলিশকে রাস্তায় দাঁড় করানো ছিল তার প্রধান উদ্যোগগুলোর একটি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল, যার একটি অংশ উদ্ধার হলেও এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অস্ত্র বাইরে রয়েছে—যা ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, কিছু বক্তব্য সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে অস্বস্তিকর মনে হওয়ায় তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে তিনি নিজে সরে যেতে চাইলেও সরকারের প্রধান তাকে তাৎক্ষণিকভাবে যেতে দেননি বলেও উল্লেখ করেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবহৃত কিছু ভারী অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এসব অস্ত্র কীভাবে পুলিশের কাছে এলো তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন ছিল, কিন্তু সে সুযোগ তিনি পাননি। কিছু ভিডিও ও ছবির ভিত্তিতে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তার মন্তব্য ছিল, কোনো নির্বাচনই শতভাগ নিখুঁত হয় না, তবে সাম্প্রতিক ভোটকে তিনি তুলনামূলক ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। একটি বড় রাজনৈতিক দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন পাওয়াকে তিনি দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে মনে করেন।
বিদেশি বিনিয়োগ, জ্বালানি খাতের চুক্তি ও বাণিজ্য আলোচনায় আন্তর্জাতিক চাপের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রে নয়, তবে কিছু বিষয়ে চাপ ছিল। বিশেষ করে বাণিজ্য আলোচনায় তা বেশি অনুভূত হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশের সক্ষমতার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্রনীতির অতীত ধারা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, একসময় তা অতিমাত্রায় একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল, যা সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য ছিল না।
সামগ্রিকভাবে তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নির্বাচন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—সবকিছু মিলিয়ে বাস্তবতা ছিল জটিল এবং অনেক বিষয় এখনো তদন্ত ও বিশ্লেষণের দাবি রাখে।