ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের বোঝা লাঘব করতে শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে নেওয়া সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সম্পূর্ণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
জানানো হয়, এই সীমার মধ্যে নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে আসল ও সুদ মিলিয়ে পুরো অর্থই বাতিল করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের কাছে কৃষকদের যে প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে, তা এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বে। এতে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক সরাসরি সুবিধা পাবেন।
সরকার মনে করছে, ঋণমুক্ত হওয়ার ফলে কৃষকেরা নতুন মৌসুমে অধিক উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদে নামতে পারবেন এবং কিস্তি পরিশোধে যে অর্থ ব্যয় হতো, তা উন্নত বীজ, সেচব্যবস্থা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তাঁদের ঋণমান উন্নত হওয়ায় ভবিষ্যতে স্বল্প সুদে ব্যাংকঋণ পাওয়াও সহজ হবে এবং উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস, গ্রাম থেকে শহরমুখী চাপ কমানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। অতীতে নব্বইয়ের দশকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেটির ইতিবাচক প্রভাবের কথাও তুলে ধরা হয়।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, যেসব কৃষকের ঋণ মওকুফ হবে, তাঁরাও কৃষিকার্ড সুবিধার বাইরে থাকবেন না। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশনার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।