ব্রিটেনের পপুলিস্ট রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে সোমবার অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে এক ‘র্যাডিক্যাল’ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। দলটি ‘অভিবাসন আক্রমণ’ বলে অভিহিত করে জাতীয় নিরাপত্তার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে নতুন ‘ডিপোর্টেশন কমান্ড’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা মার্কিন আইসি-ই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)-এর মতো কাজ করবে। স্বরাষ্ট্রবিষয়ক নীতি প্রধান জিয়া ইউসুফ ডোভার বন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের দেশ আক্রান্ত হচ্ছে, হোম সেক্রেটারি হিসেবে আমি এই আক্রমণ বন্ধ করে দেব।”
নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম পার্টি দাবি করেছে, ক্ষমতায় এলে বছরে ২ লাখ ৮৮ হাজার অনিয়মিত অভিবাসীকে বহিষ্কার করবে এবং প্রথম মেয়াদে মোট ৬ লাখের বেশি বহিষ্কার সম্ভব। এতে ‘ইলিগ্যাল মাইগ্রেশন ম্যাস ডিপোর্টেশন অ্যাক্ট’ প্রণয়ন, মানবাধিকার চুক্তি থেকে সরে আসা এবং বিচারকদের হস্তক্ষেপ রোধ করা অন্তর্ভুক্ত। দলটি পাকিস্তান, সোমালিয়া, এরিত্রিয়া, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও সুদানের উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা এবং বিদেশি নাগরিকদের কল্যাণ ভাতা বন্ধেরও ঘোষণা দিয়েছে।
ডোভার—ফ্রান্স থেকে চ্যানেল পেরিয়ে অভিবাসীদের প্রধান আগমনস্থল এ ইউসুফ বলেন, গত ৮ বছরে ২ লাখ ছোট নৌকায় আগত অভিবাসী ‘ডি-ডে’ যুদ্ধক্ষেত্রের চেয়েও বেশি। গত বছর ২০২৫ সালে ৪১,০০০-এর বেশি অভিবাসী ছোট নৌকায় এসেছে, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। নেট অভিবাসন কমলেও চ্যানেল অতিক্রম বেড়েছে।
শাসক লেবার পার্টি এই পরিকল্পনাকে ‘দেশবিভাজক’ বলে সমালোচনা করেছে। দলের চেয়ারপার্সন অ্যানা টারলি বলেন, “রিফর্ম দেশকে বিভক্ত করতে চায়, ব্রিটিশ নাগরিকদের সেবা করতে চায় না।” লেবার দাবি করেছে, ২০২৪ নির্বাচনজয়ের পর থেকে প্রায় ৬০ হাজার অনিয়মিত অভিবাসীকে বহিষ্কার করেছে।
৬৫০ সদস্যের পার্লামেন্টে মাত্র ৮ আসন থাকলেও রিফর্ম পার্টি আত্মবিশ্বাসী। জনমত জরিপে তারা লেবার ও কনজারভেটিভের সামনে এগিয়ে রয়েছে (ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ২৭.৭%)। পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালের ১৫ আগস্টের মধ্যে হবে। অভিবাসন ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে দলটি এ নীতি ঘোষণা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আইসি-ই-এর অভিযানে সাম্প্রতিক গুলিবিদ্ধের ঘটনায় সমালোচনা চলছে, যদিও ইউসুফ বলেন ব্রিটেনে তা হবে না। রিফর্মের পরিকল্পনায় ২৪,০০০ অভিবাসী একসঙ্গে আটক এবং প্রতিদিন ৫টি ফ্লাইটে বহিষ্কারের কথা বলা হয়েছে