ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় দলের ভেতরে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। দলীয় সূত্র বলছে, চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের ভাগ
- বিএনপি: ৩৫টি
- জামায়াতে ইসলামী: ১১টি
- জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): ১টি
- বাকি ৩টি: স্বতন্ত্র ও ছোট দলগুলোর মধ্যে বিতরণ
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা
বিএনপির ভেতরে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। মহিলা দল, ছাত্রদল এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সাবেক ও বর্তমান নেত্রীরা নিজেদের প্রোফাইল তৈরি করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পাঠাচ্ছেন।
- কেউ দলীয় আনুগত্য, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও পেশাগত যোগ্যতা তুলে ধরে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন
- কেউ সরকারী গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন
তবে দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, আনুষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষিত নারী আসনের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, ঈদের আগে মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সম্ভাব্য নবীন ও প্রবীণ নেত্রী
প্রবীণদের মধ্যে আছেন: আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, শিরিন সুলতানা, রেহানা আক্তার (রানু), নিপুণ রায় চৌধুরী, বেবী নাজনীন, নিলুফার চৌধুরী (মনি), বিলকিস ইসলাম, শাম্মী আখতার, সৈয়দা আসিফা আশরাফী (পাপিয়া), রাশেদা বেগম (হীরা), রোখসানা খানম, আয়েশা সিদ্দিকা, নেওয়াজ হালিমা, ফরিদা ইয়াসমীন, হেলেন জেরিন, আইনজীবী শাকিলা ফারজানা, প্রয়াত শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, মনোয়ারা বেগম (মনি) ও রুমা আক্তার
সাবেক ছাত্রদল নেত্রীদের মধ্যে: আসমা আজিজ, সুলতানা জেসমিন (জুঁই), নাসিমা আক্তার (কেয়া), রোকেয়া চৌধুরী, সুরাইয়া বেগম
জামায়াতে ইসলামী ও সংরক্ষিত নারী আসন
জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের খসড়া তালিকা তৈরি করেছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সম্ভাব্য নামের মধ্যে আছেন: নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, আইনজীবী সাবিকুন্নাহার, মার্জিয়া বেগম ও মারদিয়া মমতাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের মধ্য থেকেও মনোনয়ন আসতে পারে।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
একটি সংরক্ষিত নারী আসন পাবে। আলোচনায় আছেন যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম (মিতু)।
সময়সূচি ও প্রক্রিয়া
- সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে
- নির্বাচনে ২৯৯টি সাধারণ আসনে ৮৬ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, ৭ জন জয়ী হয়েছেন (৬ জন বিএনপি, ১ জন স্বতন্ত্র)
- সংরক্ষিত ৫০ আসন যুক্ত হলে সংসদে নারীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৭, যা ৩৫০ সদস্যের সংসদে প্রায় ১৬%
নিপুণ রায় চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হলেও সরাসরি নির্বাচনে অনেক যোগ্য নারী অংশ নিতে পারেননি। তাই সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা জরুরি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন ও নির্বাচনপ্রক্রিয়া শেষ হলে সংসদে নারীর অংশগ্রহণের নতুন এক চিত্র ফুটে উঠবে। নবীন-প্রবীণ, আন্দোলন-সংগ্রাম ও পেশাগত যোগ্যতার সমন্বয়ে কে শেষ পর্যন্ত সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন—সেই উত্তর মিলবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই।