শুক্রবার গুলশানের পুলিশ প্লাজায় সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সাইবার সহিংসতা প্রতিরোধ, নারীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং ১৯৭২ সালের সংবিধান পরিপন্থী আদর্শের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আলোচনা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সদস্য সচিব রোবাইয়াত ফাতিমা তনি মন্তব্য করেন, “জামায়াতে ইসলামী কখনোই এদেশের ক্ষমতায় আসবে না এবং ভবিষ্যতেও আসবে না। যারা নারীদের ক্ষমতায় আসতে দেয় না, যারা নারীদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করতে চায়, তারা কখনোই রাষ্ট্রক্ষমতায় আসবে না।”
তিনি আরও বলেন, “নারীদের সাইবার বুলিংয়ের বিষয়েও আমরা স্থায়ী সমাধান চাই। জামায়াতে ইসলামী নারীদের জন্য ৫ ঘণ্টার কর্মঘণ্টার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবসম্মত নয়, কারণ কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমন শর্তে নারী কর্মী নিয়োগ করবে না।”
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারী বিষয়ক বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করা হয়। তনি উল্লেখ করেন, “সম্প্রতি ডা. শফিকুর রহমান নারীদের ‘পতিতা’ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা শুধু ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, এটি বাংলাদেশের সমগ্র নারীসমাজের সাংবিধানিক অধিকার এবং সম্মানের ওপর একটি সুপরিকল্পিত আঘাত।”
বক্তারা জামায়াতের আমিরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে এবং নারীর অধিকার রক্ষায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। তারা বলেন, “এটি একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য খুবই জরুরি, যেখানে আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর থাকে।”
সংবাদ সম্মেলন শেষে বক্তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন বাংলাদেশ গঠনের আশা প্রকাশ করেন, যেখানে নারীর সম্মান ও নেতৃত্ব সুরক্ষিত থাকবে এবং সংবিধানকে সব ক্ষমতার উৎস হিসেবে মান্য করা হবে।